জাপানে মার্কিন ‘টাইফুন’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্তে চীন ও রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

0
20
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম পাল্লার টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, ছবি: পিএইচ ডিফেন্স কমিউনিটির ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া

জাপানে আগামী মাসে যৌথ সামরিক মহড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘টাইফুন’ নামের মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুমতি দেওয়ায় টোকিওকে আলাদাভাবে সতর্ক করেছে রাশিয়া ও চীন। দেশ দুটি এ পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে বর্ণনা করেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘আমরা একে আরেকটি অস্থিতিশীল করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখি। ওয়াশিংটন যেভাবে ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, এটি তারই অংশ।’

জাখারোভা আরও বলেন, জাপানে বা রাশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা মস্কোর জন্য সরাসরি কৌশলগত হুমকি। রুশ সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসে প্রকাশিত মন্তব্যে জাখারোভা জানান, মস্কো লক্ষ করছে, জাপান দ্রুত সামরিকীকরণের পথে হাঁটছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

জাপানে বা রাশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা মস্কোর জন্য সরাসরি কৌশলগত হুমকি। মস্কো লক্ষ্য করছে, জাপান দ্রুত সামরিকীকরণের পথে হাঁটছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

মারিয়া জাখারোভা, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র

রুশ মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, যদি জাপান টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত না বদলায়, তবে রাশিয়া ‘উপযুক্ত সামরিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা’ নিতে বাধ্য হবে। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার জাপানকেই বহন করতে হবে।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন একই দিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের উচিত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা, উল্টো তা নষ্ট না করা, এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র সাময়িকভাবে মোতায়েন করে হলেও।

রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, যদি জাপান টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত না বদলায়, তবে মস্কো ‘উপযুক্ত সামরিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা’ নিতে বাধ্য হবে। তা ছাড়া এ অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার জাপানকেই বহন করতে হবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, গুয়ো মন্তব্য করেন, ‘এশীয় কোনো দেশে যুক্তরাষ্ট্রের টাইফুন মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের আমরা সব সময় বিরোধিতা করি।’

জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা
জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা, ফাইল ছবি: রয়টার্স

চীনা মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা জাপানকে আহ্বান জানাই, তার আগ্রাসনের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে, শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে চলতে, সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সমাজের আস্থা আরও হারানো থেকে বিরত থাকতে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের উচিত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা, উল্টো তা নষ্ট না করা, এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র সাময়িকভাবে মোতায়েন করে হলেও।

গুয়ো জিয়াকুন, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র

গুয়ো যুক্তরাষ্ট্রকেও উল্টো পথে না গিয়ে অতীতের শিক্ষা থেকে সঠিক কাজে বেশি শ্রম ও সম্পদ ব্যয় করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, টাইফুন ব্যবস্থা মূলত ওয়াশিংটনের সেই পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে এশিয়ায় বিভিন্ন ধরনের জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন করা হচ্ছে।
২০২৪ সালে প্রথমবার ফিলিপাইনে সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়ায় এ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে চীন তখনই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর ম্যানিলা ঘোষণা করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কিনবে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার (৩০০ মাইল)। তবে এর দীর্ঘপাল্লার সংস্করণও তৈরি করা হচ্ছে।

জাপানের ‘গ্রাউন্ড সেলফ–ডিফেন্স ফোর্স’–এর একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাখা হবে হনশু দ্বীপের আইওয়াকুনি শহরের যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বিমানঘাঁটিতে। এটি টোকিও থেকে প্রায় ৮৯০ কিলোমিটার (৫৫৩ মাইল) পশ্চিমে।

২০২৪ সালে প্রথমবার ফিলিপাইনে সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়ায় এ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে চীন তখনই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর ম্যানিলা ঘোষণা করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কিনবে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার (৩০০ মাইল)। তবে এর দীর্ঘপাল্লার সংস্করণও তৈরি করা হচ্ছে।

তবে ১১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সেনাদের যে ‘রিজলিউট ড্রাগন’ মহড়া হবে, তাতে টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

আল জাজিরা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.