জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: আসিফ মাহমুদ

0
11
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হককে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, যেহেতু ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, তাই জাতীয় পার্টির ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। জাতীয় পার্টি হচ্ছে চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী দল।

আজ রোববার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হককে দেখতে যান আসিফ মাহমুদ। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী সংসদকে বারবার জাতীয় পার্টি বৈধতা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ভারতের প্রেসক্রিপশনে (পরামর্শে) বাংলাদেশে তারা একটি কৃত্রিম সংসদ তৈরি করেছে, কৃত্রিম গণতন্ত্র দেখিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই চিহ্নিত ফ্যাসিবাদীদের কোনোভাবে যদি সমর্থন দেওয়া হয়, তাহলে সেটি যেমন সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি জনগণের পক্ষ থেকেও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তা রুখে দাঁড়াবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের নামে অনেকে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কিংবা গণতান্ত্রিক সেটেলমেন্ট (সমাধান) চায় না বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যদি সরকারি দল ও বিরোধী দলে পরিণত হয়, তাহলে সেই সেটেলমেন্ট বাস্তবায়িত হয়ে যাবে। সেই জায়গা থেকে অনেকে আওয়ামী লীগকে নানা ফরম্যাটে আনতে না পারলে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে।

জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সরকার ইতিমধ্যে স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজনদের) সঙ্গে বৈঠকে বসেছে। আজকেও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও জুলাই অভ্যুত্থানের কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য আসবে, সে অনুযায়ী সরকার বিবেচনা করবে।

এ সময় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর এমন হামলা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ঘটেনি। অথচ এ সরকারের আমলে ঘটেছে। এ ঘটনার দায় সরকারকে নিতে হবে।

গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সরকার একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে ভাবছে। এটা কোনো সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীর ওপর হামলা নয়, বরং একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতার ওপর হামলা। আওয়ামী লীগের সময়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখিনি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি বলেন, এ হামলার বিচার করে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.