চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বাড়ল

0
25
চাল
  • বেড়েছে মুগ ডাল, ছোট মসুর ডাল ও চা-এর দামও।
  • অধিকাংশ সবজি দাম অবশ্য নাগালের মধ্যে রয়েছে।
  • ডিম ও মুরগির দাম স্থিতিশীল।

খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। এ ছাড়া বেড়েছে মুগ ডাল, ছোট মসুর ডাল ও চা-এর দাম। অবশ্য বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ডিম ও মুরগির দাম স্থিতিশীল আছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল ধানের চাল আসতে শুরু করেছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে এসব চালের সরবরাহ বাড়বে। এ অবস্থায় বেশির ভাগ চালের দাম কমার কথা, কিন্তু উল্টো বেড়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, বাজারে সব ধরনের মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে গতকাল বাজারে প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৩ থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে; এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৮০ টাকা। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ছিল ৬৫ টাকার আশপাশে, সেটি বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। আর দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে।

বাজারে দেশীয় ও আমদানি করা উভয় ধরনের নাজিরশাইল চাল রয়েছে। গতকাল ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগে যা ৩-৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইলের কেজি রাখা হচ্ছে ৭৫-৭৮ টাকা। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল কেজিতে ৭২-৭৫ টাকা।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা চাল বিক্রেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সার্বিকভাবে বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দামই বাড়তি রয়েছে। বছরের এই সময়ে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে আসে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা দোকানে এসব চাল বিক্রি হতে শুরু করবে। সাধারণত প্রতিবছর এসব চাল বাজারে আসার পরে পুরোনো চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বাড়ে। কিন্তু এবার নতুন চাল বাজারে আসার আগেই পুরোনো চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়েছে। ফলে নতুন চাল আসার পরে পুরোনো চালের দাম আরও বাড়তে পারে।

চালের দাম তো কমছেই না। গত মাসে যে দামে কিনেছিলাম, তার চেয়ে (কেজিতে) আরও ৩-৪ টাকা বেড়েছে। চালের সিজনেই (মৌসুম) যদি দাম না কমে, তাহলে আর কবে কমবে?

নাহিদা বেগম, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের ক্রেতা

গতকাল সকালে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে চাল কিনতে যান একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘চালের দাম তো কমছেই না। গত মাসে যে দামে কিনেছিলাম, তার চেয়ে (কেজিতে) আরও ৩-৪ টাকা বেড়েছে। চালের সিজনেই (মৌসুম) যদি দাম না কমে, তাহলে আর কবে কমবে?’

সবজির দাম স্থিতিশীল

চালের পাশাপাশি বেড়েছে ছোট দানার মসুর ও মুগ ডালের দাম। উভয় ধরনের ডালের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। তবে মোটা মসুরের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে হয়েছে ৯০ টাকায়। বাজারে চা-এর দামও বেড়েছে।

বিক্রেতারা জানান, শীতের মধ্যে চা-এর চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় কোম্পানিগুলো কেজিতে ৬০-৭০ টাকা দাম বাড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে খোলা চিনির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছিল। গতকালও এ দামেই চিনি বিক্রি হয়েছে।

বাজারে এখন নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশীয় পুরোনো পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৬৫-৭০ টাকা। আর দেশি পুরোনো পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি; প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তারা এখন শীতের সবজি কিনে স্বস্তি পাচ্ছেন। কারণ, শীত মৌসুমের সবজির সরবরাহ বেশি, দামও কম। বেশির ভাগ সবজির দামই ৫০-৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল প্রতি কেজি আলু ২০-২৫ টাকা, শিম ৪০-৬০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, শালগম ৩০-৪০ টাকা এবং বেগুন ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর টমেটোর কেজি ৮০-১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা।

এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ২৫-৩০ টাকা এবং লাউয়ের দাম ৪০-৫০ টাকা রাখা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.