
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন রোববার দেশের ১১টি শিক্ষাবোর্ডে মোট অনুপস্থিত ছিল ৩১ হাজার ৪৪৭ পরীক্ষার্থী। সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত ছিলো মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে। প্রথম দিন মোট বহিষ্কার হয়েছে ২০ শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার এসএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার প্রথম দিন রোববার রাজধানীর বাড্ডা হাইস্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের সুযোগ নেই। তবে কেউ কেউ গুজব রটাতে পারে। আর গুজব রটিয়ে ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি হবে। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গুজব রটানো রোধে সার্বক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেখানেই কোনো ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে, কেউ গুজব ছড়াবার চেষ্টা করছে বা কিছু হচ্ছে, সেখানেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আগামী বছর পরীক্ষার সময় এগোবে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,‘আগামী বছর পরীক্ষা এগিয়ে আনার চেষ্টা করবো। তবে যারা পরীক্ষা দেবে তারা পুরো প্রস্তুতির সময় পেয়েছে কিনা তা দেখা হবে। সারাদেশের শিক্ষকদের একটি মতামত নেওয়া হবে। তারা কোন সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করতে পারবেন। শুধু তো তাড়াহুড়া করে শেষ করলে হবে না। স্বস্তিতে শেষ করতে হবে। তবে চেষ্টা করবো, স্বাভাবিকের যত কাছাকাছি সময়ে নিয়ে যাওয়া যায়।’
প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে দীপু মনি বলেন,‘ভুলভ্রান্ত্রি যেটা, সেটাই তো ভুলই। গতবার যে কয়েকটি জায়গায় যাদের ভুল হয়েছে তাদের কড়া মাশুল দিতে হয়েছে। যারা দায়িত্বে থাকেন, তাদের যাতে ভুল না হয়, সেদিকে সচেতন থাকতে হবে।’
পরীক্ষা সংক্রান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্যে জানা যায়, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট অনুপস্থিত ছিলো ৩১ হাজার ৪৪৭ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত ছিলো মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১১ হাজার ৩৮৩ জন। ঢাকা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলো ৪ হাজার ২২২ জন, রাজশাহী ১ হাজার ৭২০, কুমিল্লা ২ হাজার ৬১৮, যশোর ১ হাজার ৮৩৪, চট্টগ্রাম ১ হাজার ৬০৭, সিলেট ৯৪০, বরিশাল ১ হাজার ২৬, দিনাজপুর ২ হাজার ২৪৭, ময়মনসিংহ ৯৭৮ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ হাজার ৮৭২ জন। আর সবচেয়ে বেশি বহিষ্কার হয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১১ জন শিক্ষার্থী।
এসএসসির কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার প্রমুখ।
রংপুর বিভাগের দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে রোববার দুই হাজার ২৪৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো। যা গত বছরের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি। সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতির সংখ্যা দিনাজপুর জেলায় এবং সবচেয়ে কম অনুপস্থিতি লালমনিরহাট জেলায়। রংপুরের পীরগাছায় দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী দুই ভুয়া পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে একজনকে ছয় মাস ও অপরজনকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। রোববার সকালে পরীক্ষা চলাকালীন পীরগাছা হাজী ছফর উদ্দিন মাদরাসা কেন্দ্র থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। ভুয়া পরীক্ষার্থীরা হলেন কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ ভূতছোড়া গ্রামের সোলেমান মিয়ার ছেলে বিপুল মিয়া ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আক্কাস মিয়া। তারা দু’জনই কলেজের শিক্ষার্থী।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২১৬টি কেন্দ্রে এবারের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রোববার প্রথমদিনের বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ১ হাজার ৬০৭জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি কেন্দ্রে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ। এবার ১ লাখ ৫৪ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
নোয়াখালী জেলার ৯টি উপজেলায় চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৪০ হাজার ৫৬৫ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছে অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি ৮৩৭ জন শিক্ষাথী। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই বাল্য বিবাহজনিত কারণ। অনুপস্থিত বা ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার এসএসসিতে ১.৬৯% শতাংশ, দাখিল পরীক্ষায় ৩.৩৬ শতাংশ ও কারিগরি পরীক্ষায় ২.২৮ শতাংশ। নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রাজিব দেব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

















