এনআইডিতে বেশি সিম বা হ্যান্ডসেট দেখানো নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয়

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ফেসবুক পোস্ট

0
13
মোবাইল হ্যান্ডসেট

অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা অনেক বেশি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সমস্যা সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

আজ শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালু হলেও আগামী ৯০ দিন কারও অবৈধ কিংবা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। এ বিষয়ে কাউকে ভীত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এক এনআইডিতে একাধিক সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখানো প্রসঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ‘আমরা অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি ডেটা সেট পেয়েছি। অর্থাৎ অপারেটররা হিস্টোরিক ডেটাসহ সবকিছুই সিস্টেমে তুলেছে। তবে মাইগ্রেশনের তারিখটা এখনকার দেখানো হয়েছে বলে অনেকের এনআইডিতে সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে।’

ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরেরা যৌথভাবে এ নিয়ে কাজ করছে। ধীরে ধীরে হিস্টোরিক ডেটা ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ করে শুধু বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখানো হবে। এ জন্য কিছুটা সময় লাগবে।

এনইআইআর বিষয়ে অনেকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জানিয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এ–সংক্রান্ত ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং সমস্যাগুলোকে সামনে এনে দেওয়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। শুরুর দিকে টেকনিক্যাল প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের বেশকিছু জটিল ইস্যু দেখা দেবে, এসব সলভ করা হবে।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ‘আমাদের বলা হয়েছে আগে ভিএপিটি (ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড পেনেট্রেশন টেস্টিং) করা হয়েছিল। তবে নতুন করে আরেকবার ভিএপিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সিস্টেম আমরা নতুন ইনস্টল করিনি, এটা আগে থেকেই ছিল। ২০২১ সালে প্রথম চালুর চেষ্টা হয়েছিল। কিছু ফাংশনাল ফিচার বাড়িয়ে এখন সচল করা হয়েছে।’

বাংলাদেশে একজন ব্যক্তির একটি এনআইডির বিপরীতে প্রথমে ২০টি এবং পরে ১৫টি পর্যন্ত সিম ব্যবহারের অনুমতি ছিল। যা বর্তমানে ১০টিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এ কারণে এনইআইআর ম্যাপিংয়ে এনআইডির বিপরীতে হিস্টোরিক ডেটায় অনেক বেশি হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখানো স্বাভাবিক বলেও উল্লেখ করেছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ফেসবুক পোস্টে আরও বলেন, এর মাধ্যমে সমাজের সচেতনতা তৈরি হবে, ব্যক্তির এনআইডির বিপরীতে কত সিম ব্যবহার হয়েছিল, সিমের বিপরীতে কত ডিভাইস ব্যবহার হয়েছিল—এসব তথ্য মানুষ জানতে পারবেন এবং সচেতন হতে পারবেন। ব্যক্তির এনআইডির বিপরীতে নিবন্ধিত সিম বা ডিভাইসে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন জুয়া–সংক্রান্ত আর্থিক অপরাধ হচ্ছে কি না, এটা জানা ব্যক্তির নাগরিক অধিকার।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘ডেটাবেজ নিরাপদ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ ডিজিটাল টোকেন জেডব্লিউটি কাজ করছে। রেট লিমিট করা হয়েছে। এখন থেকে ডেটা পেতে এনআইডি জানতে হবে, এনআইডির বিপরীতে আইএমইআই রেসপন্স করতে বলা হয়েছে। ১৩, ১৭ ও ১০ ডিজিট এনআইডির তিনটি ম্যাপিং করা আছে। একটা এপিআইয়ে এনআইডি দেওয়ার পরে যে আইএমইআই রেসপন্স আসছে এটা আমাদের নজরে এসেছে। এনআইডি নম্বর জানা থাকলে এই ধরনের ডেটা আসবে। অধিকতর নিরাপত্তার জন্য এখানে আরেকটা লেয়ার যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.