
ভ্যাট রিফান্ড পেতে ব্যবসায়ীদের আর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে না। এখন থেকে অনলাইনে সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে ভ্যাট রিফান্ডের টাকা পাঠানো হবে। এ জন্য ই-ভ্যাট রিফান্ড–ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নতুন এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে রিফান্ড আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
আজ বুধবার ঢাকার রাজস্ব ভবনে অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড–ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। উদ্বোধনের অংশ হিসেবে ঢাকার তিনজন করদাতার ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ভ্যাট রিফান্ড পাঠানো হয়। অনুষ্ঠানে করদাতাদের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন পদ্ধতি চালু করে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ‘এখন থেকে রিফান্ড আবেদন জমা দিতে বা অর্থ গ্রহণের জন্য করদাতাদের ভ্যাট কার্যালয়ে যেতে হবে না। এতে সময় ও খরচ—দুটোই কমবে। পাশাপাশি কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।’
নতুন এ পদ্ধতিতে ভোগান্তি থাকবে না বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রিফান্ডে যেন ভোগান্তি না থাকে। করদাতা অনেক সময় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে আমাদের টাকা দেয়। এটি তার ন্যায্য পাওনা। সেই টাকা ফেরত পেতে যদি তাঁকে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, তাহলে তা আমাদের ব্যর্থতা।’
এনবিআর জানায়, এ পর্যন্ত ১১৫টি প্রতিষ্ঠান ১২৪ কোটি টাকা রিফান্ড চেয়ে আবেদন করেছে। মোট ৪ হাজার কোটি টাকা ফেরত দেবে এনবিআর।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত ই-ভ্যাট সিস্টেমে আলাদা রিফান্ড মডিউল যুক্ত করা হয়েছে। এটি অর্থ বিভাগের আইবাস সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে রিফান্ড অনুমোদন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি করদাতার নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো যাবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘করদাতা নিজেই ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য দেবেন, যা এনবিআরের রেকর্ডে থাকবে। তিনি শুধু “আমি রিফান্ড চাই”—এই বাটনে ক্লিক করলেই কাজ শেষ। এরপরের সব কাজ আমাদের দিক থেকে সম্পন্ন হবে। আমরা যাচাই করব, রিফান্ডে সমস্যা আছে কি না।’
এনবিআর জানায়, সংস্থাটির সব কার্যক্রম ধাপে ধাপে ডিজিটাল করার কাজ চলছে। কর ব্যবস্থাপনাকে সহজ ও জনবান্ধব করতে এই উদ্যোগে করদাতাদের সহযোগিতা চেয়েছে সংস্থাটি।
















