আইএমইআই ক্লোন হওয়া মোবাইল ফোন নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

0
20
এনইআইআর চালুর পর দেশে ক্লোন ও নকল মোবাইল ফোন

এনইআইআর চালুর পর দেশে ক্লোন ও নকল মোবাইল ফোন ব্যবহারের ব্যাপকতা নজরে এসেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের। তবে, এসব ডিভাইস এখনই বন্ধ করা হচ্ছে না।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেটওয়ার্কে লাখ লাখ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর সচল থাকলেও জনজীবনে হঠাৎ করে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক না করে সেগুলোকে ‘গ্রে’ হিসেবে ট্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্কে লক্ষ লক্ষ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর সচল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘১১১১১১১১১১১১১’, ‘০০০০০০০০০০০০০’, ‘৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯’ সহ একই ধরনের অস্বাভাবিক প্যাটার্নের আইএমইআই। তবে এসব আইএমইআই এখনই ব্লক করা হচ্ছে না। এসব ডিভাইসের কোনো রেডিয়েশন টেস্ট পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই কখনোই হয়নি। তবে চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কেই এসব ফোন ব্যাপকভাবে সক্রিয় রয়েছে এবং সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জনজীবনে হঠাৎ করে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে– এমন আশঙ্কায় এসব মোবাইল ফোন সরাসরি বন্ধ না করে ‘গ্রে’ ক্যাটাগরিতে ট্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই মুহূর্তে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ ব্যাহত হয়।

সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১০ বছরে শুধু একটি আইএমইআই নম্বর– ৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯-এর বিপরীতে পাওয়া গেছে মোট ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি সংযোগ (ডকুমেন্ট আইডি, এমএসআইএসডিএন ও আইএমইআইয়ের বিভিন্ন কম্বিনেশন)। এসব আইএমইআই স্মার্টফোন ছাড়াও বিভিন্ন আইওটি ডিভাইসের হতে পারে। তবে মোবাইল অপারেটররা বর্তমানে মোবাইল ফোন, সিম-সংযুক্ত ডিভাইস ও আইওটি ডিভাইসের আইএমইআই আলাদা করে শনাক্ত করতে পারছে না। উদাহরণ হিসেবে, সিসিটিভি বা অনুরূপ ডিভাইস একই আইএমইআই নম্বরে আনা হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে বৈধভাবে আমদানি করা আইওটি ডিভাইস আলাদাভাবে ট্যাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

শীর্ষ কয়েকটি আইএমইআই নম্বর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪৪০০১৫২০২০০০ নম্বরের বিপরীতে রয়েছে প্রায় ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮টি ডিভাইস, যেগুলো ডুপ্লিকেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একইভাবে, ৩৫২২৭৩০১৭৩৮৬৩৪ নম্বরে প্রায় ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৪৮টি, ৩৫২৭৫১০১৯৫২৩২৬ নম্বরে ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৫৭১টি এবং শুধু ‘০’ আইএমইআই নম্বরে রয়েছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি ডিভাইস।
বিজ্ঞাপন

এছাড়া, ৩৫৪৬৪৮০২০০০০২৫ নম্বরে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৮টি, ৩৫৮৬৮৮০০০০০০১৫ নম্বরে ৫ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৭টি, ৮৬৭৪০০০২০৩১৬৬১ নম্বরে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১৭টি এবং ৮৬৭৪০০০২০৩১৬৬২ নম্বরে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৮১৪টি ডিভাইস সক্রিয় রয়েছে। আরও রয়েছে ১৩৫৭৯০২৪৬৮১১২২ নম্বরে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯০৭টি, ৩৫২১০৮০১০০০২৩০ নম্বরে ২ লাখ ১৩ হাজার ৭৮৯টি এবং ১৫১৫১৫১৫১৫১৫১৫ নম্বরে ২ লাখ ১০ হাজার ৩৭টি ডিভাইস।

তালিকায় আরও দেখা যায়, ৩৫৯৭৫৯০০২৫১৪৯৩ নম্বরে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৮২টি, ৩৫৮৬৮৮০০০০৯৩৮৫ নম্বরে ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৩টি, ৩৫৫০৫০০২০৯৮৪৫১ নম্বরে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬০টি, ৩৫৯৪৫৪৭৮৪৯৮১৮৮ নম্বরে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৫৬টি এবং ৩৫৪৬৪৮০২০০০০০০ নম্বরে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৪৬টি ডিভাইস সচল রয়েছে।

এছাড়া, ৩৫৩৯১৯০২৫৬৮০১৩ নম্বরে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫টি, ৩৫৯৭৩৮০০৯৫৫৩৪০ নম্বরে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৮৪টি, ৩৫৩২৫৯০৫৪৫৭৪৬৮ নম্বরে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৯৬টি, ৩৫৯৬৮৮০০০০০০১৫ নম্বরে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৪০টি, ৩৫৮২৭৩১১৭৩৮৬৩৪ নম্বরে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৮১টি এবং ৩৫৪৪৮৫০১৫৬৭২০৭ নম্বরে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭১টি ডিভাইস সক্রিয় রয়েছে।

একইভাবে, ৮৬৩০১৪০২০০০০০৫ নম্বরে ১ লাখ ৬ হাজার ৩১৪টি এবং ৩৫৪১১২০৮০৬৪৪২৯ নম্বরে ১ লাখ ৩ হাজার ২৮১টি মোবাইল সেট নেটওয়ার্কে সচল রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন মতে, ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসে। বিটিআরসি ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ই-কেওয়াইসি জালিয়াতির ৮৫ শতাংশ ঘটেছিল অবৈধ ফোন, কিংবা পুনঃপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে। ২০২৩ সালে ১,৮ লাখ ফোন চুরির রিপোর্ট হয় (রিপোর্ট হয়নি এমন সংখ্যা আছে আরও কয়েক লক্ষ), এসব ফোনের অধিকাংশই উদ্ধার করা যায়নি।

বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে এভাবে আন-অফিশিয়াল নতুন ফোনের নামে নকল ফোন বিক্রি করা হয়েছে, এমন প্রতারণা অভাবনীয় এবং নজিরবিহীন। জনস্বার্থে এই চক্রের লাগাম টানা জরুরি বলেও জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহারে কার্যকর লাগাম টানতে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে দ ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর যুক্ত হচ্ছে জাতীয় ডাটাবেইজে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.