৮ ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়নি

মেশিনের মান নিয়ে প্রশ্ন

0
94
করোনাভাইরাস

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজে করোনা শনাক্তকরণের নমুনা পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ১২ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার কাজ হচ্ছে না। প্রায় এক মাস আগে এটি চালু করা হয়। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ১৯০টি করে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছিল সেখানে। হঠাৎ করে কেন নমুনা পরীক্ষার কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হলো, সে সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে নানা তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবরেটরিতে স্থাপিত রিয়েল টাইম পরিমার্স চেইন রিঅ্যাকশন (আরটিপিসিআর) মেশিনটি বিকল হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার জন্য মেশিনে দেওয়া সব নমুনার ফলাফলই পজিটিভ আসছিল। এতে সংশ্নিষ্টদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিলে অপর একটি ল্যাবে ওই নমুনা পরীক্ষা করে ৯০টির মধ্যে ২২টি পজিটিভ পাওয়া যায়। এ ছাড়া মেশিনটি চালানোর মতো দক্ষ জনবলেরও অভাব রয়েছে। এসব কারণে আপাতত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক চিকিৎসক বলেন, প্রতিমাসে একবার করে মেশিন সার্ভিসিং করতে হয়। এক মাস চলার পর মেশিনটি সার্ভিসিংয়ে থাকায় পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহ গোলাম নবী বলেন, আরটিপিসিআর মেশিনের জন্য বায়োসেফটি লেভেল-২ মানের ল্যাব প্রয়োজন। তাদের ল্যাবে কিছু ত্রুটি থাকায় ড্রপলেট হচ্ছিল। এ কারণে ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের পরামর্শ মেনে ল্যাব তৈরির কাজ চলছে। কাজ সম্পন্ন হলেই ল্যাবে পুরোদমে নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে।

মেশিনটি সার্ভিসিংয়ের বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক মাসের কিছু বেশি সময় ধরে মেশিনটি সচল ছিল। নির্দিষ্ট সময় পরপর এটি সার্ভিসিং করতে হয়। মেশিন সার্ভিসিংয়ের কাজও চলছে।

মেশিনে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল সঠিকভাবে আসছে না- এমন অভিযোগের বিষয়ে ডা. শাহ গোলাম নবী বলেন, ল্যাবে ড্রপলেট হলে তো মেশিনেও ভাইরাস আক্রমণ করবে। আবার ওই কক্ষে যেসব নমুনা নেওয়া হবে, সেগুলোও সংক্রমিত হতে পারে। এসব কারণে মেশিনে সঠিক ফলাফল আসছিল না। সবকিছু ঠিক করে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে আবারও নমুনা পরীক্ষার কাজ শুরু করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মতো রাজধানীর আরও সাতটি প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচ), জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম), স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র, এভারকেয়ার হাসপাতাল, প্রাভা হেলথ বাংলাদেশ লিমিটেডের ল্যাব। কার্যক্রম শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই হঠাৎ করে ল্যাবগুলোতে কেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে- তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একেক প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ একেক ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। আবার অনেকে মুখ খুলতে চাননি। কেউ কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানাও ল্যাবগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ হওয়ার কারণ সম্পর্কে কিছু পরিস্কার করেননি। তবে তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ রোববার) বুলেটিনে তিনি এর ব্যাখ্যা দেবেন।

মুগদা মেডিকেল কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে সমস্যার বিষয় তুলে ধরে জানতে চাওয়া হলে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘কিছু ল্যাবে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আবার কিছু ল্যাবে অন্য সমস্যাও আছে। সব বিষয়ে বিস্তারিত বুলেটিনেই ব্যাখ্যা করা হবে।’ পুরোনো আরটিপিসিআর মেশিনের কারণে সমস্যা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যারা সরাসরি ওই মেশিনে কাজ করছেন তারা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। তবে নতুন ও পুরোনো সব ধরনের মেশিনেই পরীক্ষা হচ্ছে।’

দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের এ ধরনের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে আরও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ১৫ হাজারে উন্নীত করার কথা বলেন। এর মধ্যে হঠাৎ করে আগের দিনের তুলনায় গতকাল শনিবার প্রায় আড়াই হাজার নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। একাধিক ল্যাবে পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়াকে অনেকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের শুরুতেই হোঁচট হিসেবে দেখছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করে সংশ্নিষ্টরা।

নেপথ্য কারণ : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ একাধিক সূত্রে কথা বলে জানা গেছে, দেশে করোনা সংক্রমণের পর জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানই (আইইডিসিআর) নমুনা পরীক্ষার কাজ করে আসছিল। ওই সময় আইইডিসিআরের বাইরে আরও সাতটি প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষার ল্যাব ছিল। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আরও ৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ল্যাব স্থাপন করা হয়। এ জন্য সরকারিভাবে ৩১টি আরটিপিসিআর মেশিন কেনা হয়। মেশিনগুলো দেশের ৩১টি প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে স্থাপন করা হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, থার্মোফিশার ৭৫০০ মডেলের আরটিপিসিআর মেশিনগুলো ২০০৯ সালের পুরোনো মডেলের। পরবর্তী সময়ে ওই কোম্পনির আরও কয়েকটি নতুন মডেলের মেশিন বাজারে এসেছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী চাহিদার সুযোগ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরোনো মডেলের মেশিনই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে গছিয়ে দিয়েছে। এসব মেশিনে দিনে ৯০টির বেশি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ উন্নতমানের একটি মেশিনে তিন শিফটে প্রতিদিন ২৭০টি পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। মেশিনের ত্রুটির কথা তুলে ধরে রাজধানীর দুটি হাসপাতালের পরিচালক তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সঙ্গে নমুনা পরীক্ষার বিষয় নিয়ে হাসপাতাল পরিচালকদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে কয়েকজন পরিচালক মেশিনের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বৈঠকে সংযুক্ত ছিলেন- এমন দু’জন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈঠকের শুরুতেই রাজধানীর করোনা ডেডিকেটেড একটি হাসপাতালের পরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ করা আরটিপিসিআর মেশিনটির মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মেশিনটি দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। ২০০৯ সালের পুরোনো মডেলের এই মেশিন দিয়ে দিনে কোনোভাবেই ৯০টির বেশি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বিতীয় শিফটে কাজ করতে গেলে মেশিনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

করোনা ডেডিকেটেড অপর এক হাসপাতালের পরিচালক ২০০৯ মডেলের ওই মেশিন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে আপাতত কাজ চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানালে উন্নতমানের মেশিন সরবরাহের শর্তে তিনি সেটি আপাতত গ্রহণে সম্মতি দেন। কিন্তু করোনা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাজধানীর অপর একটি হাসপাতালের পরিচালক ওই মেশিন গ্রহণই করেননি। ওই পরিচালক বলেন, পুরোনো এই মেশিনে নমুনা পরীক্ষার সঠিক তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে। কয়েকটি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ত্রুটিপূর্ণ ফল এসেছে।

নমুনা পরীক্ষা নিয়ে নানা অভিযোগ : ওই পরিচালকের সঙ্গে আলাপের সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেসরকারি সিটি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা গত ২৬ এপ্রিল মারা যান। করোনার লক্ষণ প্রকাশের পর তার দুই দফা পরীক্ষা করা হয়েছিল। প্রতিবারই নেগেটিভ এসেছে। মৃত্যুর পর নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ হয়। এর আগে ১৩ এপ্রিল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক চিকিৎসকের নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ জানানো হয়। ২১ এপ্রিল পরীক্ষার জন্য তিনি আবার নমুনা দেন। ২৩ এপ্রিল জানানো হয়, তার করোনা নেগেটিভ। দ্বিতীয়বার পরীক্ষার জন্য ২৫ এপ্রিল তার নমুনা নেওয়া হয়। ২৮ এপ্রিল জানানো হয়, তিনি করোনা পজিটিভ। ওই চিকিৎসককে জানানো হয়, আগেরবার ফলস নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছিল। সর্বশেষ অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানেরও মৃত্যুর পর নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় তা নেগেটিভ এসেছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুগদা মেডিকেল কলেজে নমুনা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, নমুনা সংগ্রহে ত্রুটি থাকলে এ ধরনের ফল আসতে পারে। আবার মেশিনের ত্রুটির কারণেও সঠিক ফল না আসতে পারে। তবে মুগদা মেডিকেল কলেজের মেশিনের ত্রুটির বিষয়টি শনাক্ত হওয়ায় এখন অন্য মেশিনগুলোর মানও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সরকারি মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা কম : গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবে আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি ১২৬টি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০৭টি, চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও ঢাকা শিশু হাসপাতাল ১৭৭টি, ঢাকা মেডিকেল কলেজে ১৬৬টি, আইসিডিডিআর,বিতে ৫৯৯টি, আইদেশীতে ৯৩টি, আইইডিসিআরে ৫২৭টি, ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে এক হাজার ১৫৪টি, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে ১৪৪টি, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ৩৬০টি, স্কয়ার হাসপাতালে ১৪৯টি, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২২টিসহ মোট তিন হাজার ৭২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর বাইরে স্বাস্থ্য বিভাগের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি দুটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে কোনো পরীক্ষাই হয়নি।

ঢাকার বাইরে বিআইটিআইডিতে ২৫৫টি, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০টি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ১২৮টি, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ১৪৩টি, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ১৮৪টি, নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে ৮৭টি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১০টি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৩৪৯টি, জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে ৫৩টি, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ৫৬টি, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ ও দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে ১৮৮টি করে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ৮৫টি, খুলনা মেডিকেল কলেজে ৬৮টি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬৫টি, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ৬১টি, বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে ৯৪টি, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ১৭৭টি, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ৮৫টি, রূপগঞ্জের গাজী কভিড-১৯ পিসিআর ল্যাবে ২৮২টি, সিএমএইচ (যশোর, বগুড়া, রংপুরে) ১২টিসহ মোট তিন হাজার ৫৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে গতকাল ছয় হাজার ৭৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর আগের দিন আট হাজার ৫৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

ল্যাবগুলোতে পরীক্ষা না হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে ফোন করা হলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ তা রিসিভ করেনি। তবে নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশিদ রিয়াজ বলেন, তাদের ল্যাবে কোনো সমস্যা নেই। একটানা কাজ করে অনেক কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের বিশ্রাম দিতে শুক্রবার ল্যাব বন্ধ রাখা হয়। তাই গতকাল শনিবার নমুনা পরীক্ষার কোনো প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। রোববার থেকে তারা প্রতিবেদন দেবেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জামিল আহমেদকে ফোন করা হলে ব্যস্ত আছেন জানিয়ে এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামছুজ্জামান বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে থাকা প্রতিটি মেশিনে চার শিফটে ৯০টি করে ৩৬০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এভাবে একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৯৪টি নমুনা পরীক্ষার কাজ তিনি করেছেন।

অন্য প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি মেশিনে প্রতিদিন তিন শিফটে ২৭০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অনেক ল্যাবে তা হচ্ছে না। এটি দক্ষ জনবলের সংকটের কারণে হতে পারে। আবার অন্য কোনো কারণেও হতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে