৫৪ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে ২০২৩ সালে

0
46
জ্বালানি তেল, ছবি: সংগৃহীত

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রাহাত আনোয়ার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে জিটুজি ভিত্তিতে ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টন পরিশোধিত তেল আমদানি করা হবে। আর সৌদি আরবের আরামকো ও আবুধাবির এডিএনওসি থেকে ১৬ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম)।

বিপিসির তথ্যানুযায়ী, বছরে দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৬৫ লাখ টন। মোট চাহিদার ৯০ শতাংশই আমদানি করা হয়। আর দেশে জ্বালানি তেলের মোট বার্ষিক ব্যবহারের ৬৩ শতাংশই ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে, বাকিটা সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে।

সূত্রগুলো জানায়, চলতি পঞ্জিকা বছরের জানুয়ারি-জুনের মধ্যে বিপিসি ৭ লাখ ৯১ হাজার টন অপরিশোধিত তেল এবং ২৭ লাখ ৯০ হাজার পরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। পরিশোধিত তেলের মধ্যে আছে ডিজেল, জেট ফুয়েল, অকটেন ও ফার্নেস ওয়েল।

এদিকে সরকারি বিক্রয়কারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ১ কোটি ৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল এবং ৮ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ জন্য খরচ হবে ৩৪৮ কোটি টাকা।

অতিরিক্ত সচিব রাহাত আনোয়ার জানান, সয়াবিন তেলের মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার কেনা হবে মেঘনা এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে। এ জন্য খরচ হবে ১৮৯ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি লিটার কেনা হবে ১৭১ দশমিক ৮৫ টাকা হিসাবে। আর ৫৫ লাখ লিটার তেল কেনা হবে সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে। এতে মোট খরচ হবে ৮৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৫৯ দশমিক ৯৫ টাকা।

উন্মুক্ত দরপদ্ধতিতে আট হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয় বৈঠকে। প্রতি কেজি ডালের দাম পড়বে ৮৮ দশমিক ৭৩ টাকা।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকেও টিসিবির মাধ্যমে দেশীয় ৩ কোম্পানি থেকে ১ কোটি ৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ক্রয় কমিটির বৈঠকে কানাডা থেকে ৫০ হাজার টন এমওপি ও মরক্কো থেকে ৯০ হাজার টন ডিএপি সার কেনার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়। এতে ব্যয় হবে ৭৩৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

এ ছাড়া প্রাথমিকের জন্য ২ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ৯৯০ কপি পাঠ্যপুস্তক কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে এ পাঠ্যপুস্তক কেনা হবে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব রাহাত আনোয়ার জানান, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণাঞ্চল পতেঙ্গা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশবান্ধব পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একটি প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) ভিত্তিতে। চট্টগ্রাম ওয়াসা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.