৩ গোলের নিচে করছেই না বায়ার্ন

0
46
ফুর্টের আত্মঘাতী গোলের পর বায়ার্নের খেলোয়াড়দের উল্লাস, ছবি: রয়টার্স

বরং বনে গেল বায়ার্নের ৩ গোলের ‘রীতি’র নতুন শিকার। এই মৌসুমে বায়ার্নের ম্যাচ মানেই যে বাভারিয়ানদের অন্তত তিনবার গোলের উল্লাস। এই তো চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার মাঠে গিয়ে বার্সার জালে ৩ গোল দিয়ে আসার এখনো পুরো ১০ দিন হয়নি!

মাঝে গত শনিবার লিগে বোখুমকে নিজেদের মাঠে ডেকে এনে ৭ গোল দিয়েছিলেন মুলার-লেভানডফস্কিরা। কাল আবার বার্সার মতো করে ফুর্টকেও ৩ গোল দিল বায়ার্ন, লিগের ম্যাচটা ৩-১ গোলে জিতেছে ইউলিয়ান নাগলসমানের দল।

ম্যাচে ন্যূনতম তিন গোল করা অভ্যাসে পরিণত করেছে বায়ার্ন

ম্যাচে ন্যূনতম তিন গোল করা অভ্যাসে পরিণত করেছে বায়ার্ন
ছবি: রয়টার্স

মৌসুমের প্রথম ম্যাচে বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের মাঠে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই অন্তত ৩ গোলের নিচে করেনি বায়ার্ন!

ঘরের মাঠ স্পোর্টপার্ক রোনহফে হাজার দশেক সমর্থকের সামনে বায়ার্নকে আতিথ্য দিয়েছিল গ্রেটার ফুর্ট। মাঠের কাজটা লড়াই হলেও ফার্থের আতিথ্যটা আক্ষরিক অর্থে ধরলেও ভুল হয় না। ম্যাচের ১০ মিনিটে বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ড টমাস মুলারের গোলে পিছিয়ে পড়ে ফুর্ট। ৩১ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের গোলে ব্যবধান হয় দ্বিগুণ।

বিরতির পর যখন ভাবা হচ্ছিল বায়ার্ন আরও কয়েকটি গোল হয়তো করবে, ঠিক তখনই ধাক্কা—৪৮ মিনিটে মারাত্মক ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন বায়ার্ন ডিফেন্ডার বেনজামিন পাভার। ফুর্টের এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল।

কিন্তু ম্যাচটা হয়েছে একপেশে। উল্টো ৬৮ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বসেন ফুর্ট মিডফিল্ডার সেবাস্তিয়ান গ্রোয়েজবেক। নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট আগে সেদরিক ইত্তেন ফুর্টের হয়ে সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন। রবার্ট লেভানডফস্কির তা দেখে হিংসা লাগতে পারে।

৬ ম্যাচে ৪ গোল করা ফুর্টের চেয়ে এ মৌসুমে লিগে লেভার গোলসংখ্যা বেশি—লেভার ৬ ম্যাচে ৭ গোল। তবু লেভার হিংসা লাগার কারণটা অন্য। বায়ার্নের হয়ে পোলিশ তারকা কাল রাতের আগে সর্বশেষ কোনো ম্যাচে গোলবঞ্চিত ছিলেন গত ১১ ফেব্রুয়ারি।

ফুর্টের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করছেন বায়ার্নের লেরয় সানে

ফুর্টের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করছেন বায়ার্নের লেরয় সানে
ছবি: রয়টার্স

মাঝে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৯ ম্যাচে গোলের পর কাল রাতে গোলের দেখা পাননি। বায়ার্নের জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের গড়া টানা ১৬ লিগ ম্যাচে (১৯৬৯-৭০ মৌসুমে) গোলের রেকর্ডে লেভানডফস্কির (টানা ১৫ ম্যাচ) ভাগ বসানো হলো না।

৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে বায়ার্ন। ৫ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ভলফসবুর্গ। এখন পর্যন্ত জার্মান লিগে অপরাজিত আছে এ দুই দলই। এ মৌসুমে টানা ৮ ম্যাচে ন্যূনতম ৩টি করে গোল করল নাগলসমানের দল।

এই জার্মান বাভারিয়ানদের কোচ হয়ে আসার পর লিগে প্রথম ম্যাচটা জিততে পারেনি বায়ার্ন। প্রাক্‌-মৌসুমেও কোনো ম্যাচ না জেতা বায়ার্নের লিগে প্রথম ম্যাচে ওই ড্রয়ের পর কত কথাই না উঠেছিল! কিন্তু বায়ার্ন তো বায়ার্নই! এরপর থেকে লিগে জিতল টানা ৫ ম্যাচ। গোলের অভ্যাসও চোখ রগড়ে দেওয়ার মতো।

লিগে এরই মধ্যে ৬ ম্যাচে ২৩ গোল করেছে বায়ার্ন! তিনে থাকা বরুসিয়া ডর্টমুন্ড দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ গোল করলেও ১১ গোল হজম করায় গোল ব্যবধান মাত্র ‍+৬। কিন্তু বায়ার্ন মাত্র ৫ গোল হজম করায় তাদের গোল ব্যবধান ‍+১৮। লিগে এ পর্যন্ত ১০-এর বেশি গোল করতেই পেরেছে আর একটি দল—বায়ার লেভারকুসেন।

এ তো গেল লিগের ম্যাচ, চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সাকে ৩ গোল দেওয়া বায়ার্ন জার্মান সুপারকাপে ডর্টমুন্ডকে হারিয়েছে ৩-১ গোলে। এরপর জার্মান কাপে পঞ্চম বিভাগের দল ব্রেমার এসভিকে পেয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে, দিয়েছে ১২ গোল! সব মিলিয়ে মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে বায়ার্ন গোল করেছে ৪১টি!

বোঝাই যাচ্ছে, নাগালসমানের আক্রমণ ও রক্ষণ জার্মান ‘যন্ত্র’-এর মতোই কাজ করছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে