১৯ দিন পর জট খুলল হত্যা-রহস্যের

0
190
প্রতীকী ছবি

খিলক্ষেতে বালু নদের ঘাটে ১৯ দিন আগে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় শরিফ মিয়া (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে মাথায় আঘাত করে ও পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করেছিল দুর্বৃত্তরা। এর দুদিন পর বসুন্ধরাসংলগ্ন খাল থেকে পুলিশ তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। শরিফ মিয়া ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাঝি ছিলেন।

১৯ দিন পর আজ রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (উত্তর) উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ডিবির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, দুই মদ ব্যবসায়ী মোমেন মিয়া ও দেলোয়ার হোসেন ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উঠে শরিফ মিয়াকে হত্যা করেন। আর মোন্তা মিয়া দুজনকে হত্যায় উদ্বুদ্ধ করেন। আজ রোববার রাজধানীর পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে মোমেন ও মোন্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা শরিফ মিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি দাবি করেন, শরিফ তাঁর নৌকায় মোমিন মিয়ার এক বান্ধবীকে নিয়ে এসেছিলেন। এই নিয়েই হত্যাকাণ্ড।

৫ নভেম্বর বিকেলে স্থানীয় ছালাউদ্দিন শরিফ মিয়াকে খিলক্ষেতের পাতির দক্ষিণ পাড়ার বাসা থেকে যাত্রী পারাপারের জন্য ডেকে নিয়ে যান। এরপর শরিফ বাসায় ফিরে আসেননি। দুদিন পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পি ব্লকের ডগরদিয়া খালে শরিফ মিয়ার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শরিফ মিয়ার ছেলে সজীব মিয়া বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি থানা-পুলিশের পাশাপাশি ডিবির উত্তর বিভাগ ছায়া তদন্ত করে।

মামলার তদন্ত সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, মাঝি শরিফ তাঁর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বালু নদীতে যাত্রী পার করতেন। এ ছাড়া তিনি তাঁর নৌকায় বালু বহনও করতেন। শরিফ অন্যদের সঙ্গে বসুন্ধরা বি ব্লকের পাশে কাশবনে বাংলা মদ তৈরি ও বিক্রি করতেন। ৫ নভেম্বর মদ ব্যবসায়ী মোমেন মিয়া ও দেলোয়ার বালু নদে মাঝি পারভেজকে নিয়ে মদ বিক্রি করতে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ওঠেন। একপর্যায়ে মোমেন দেখতে পান বালু নদে শরিফের নৌকায় তাঁর বান্ধবী। এতে মোমিন ক্ষুব্ধ হন। পরে মোমেন ও দেলোয়ার শরিফের নৌকায় ওঠেন। তাঁরা শরিফকে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে শরিফ নৌকার পাটাতনে অচেতন হয়ে পড়ে যান। তখন মোমেন ও দেলোয়ার শরিফকে পানিতে চুবিয়ে ধরে রাখেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মোমেন ও দেলোয়ার শরিফের লাশ গুম করতে বালু নদে ফেলে দেন। পরে লাশটি ভেসে বসুন্ধরাসংলগ্ন ডগরদিয়া খালে ভেসে ওঠে।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, শরিফ হত্যায় মোমেন ও মোন্তাকে গ্রেপ্তার করা গেলেও দেলোয়ার পালিয়ে গেছেন। দেলোয়ারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সেদিন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পারভেজ হত্যাকাণ্ড জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সময় নৌকায় যাঁরা ছিলেন, তাঁরা হত্যায় জড়িত ছিলেন কি না তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.