১২ কোটি টাকার রাস্তা পাঁচ মাসেই শেষ

0
161
পাবনার পারফরিদপুর থেকে বিএলবাড়ী গ্রাম পর্যন্ত নির্মিত এই সড়কটি পাঁচ মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পারফরিদপুর থেকে বিএলবাড়ী গ্রাম পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় ১২ কোটি টাকা। গত ৩০ জুন রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পাঁচ মাস পার হতে না হতেই সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে কার্পেটিংসহ বেশিরভাগ জায়গা ধসে গেছে। ফাটল ধরেছে আরও কিছু অংশে। ফলে সড়কটিতে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণে ত্রুটির কারণেই এমন অবস্থা হয়েছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিস জানিয়েছে, ঠিকাদারকে নিজ অর্থে  সড়কটি পুনরায় মেরামত করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডি ফরিদপুর উপজেলা অফিস ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পারফরিদপুর থেকে বিএলবাড়ী গ্রাম পর্যন্ত ৬ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণ কাজের ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। কাজটি পান রাজশাহীর ঠিকাদার আব্দুল আওয়াল। কাজটি তিনি বিক্রি করে দেন পাবনার ঠিকাদার শাহনেওয়াজ আলীর কাছে। ২০১৬ সালের শেষের দিকে কাজটি শুরু হয়। গত বছরের শুরুর দিকে ঠিকাদার ৫০ শতাংশ বিল তুলে নিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর উপজেলা প্রকৌশল অফিস ঠিকাদার আব্দুল আওয়ালকে কাজ শেষ করার জন্য চিঠি দেয়। পরে আব্দুল আওয়াল নিজেই কাজ শুরু করেন। এ সময় ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশল অফিস কাজটির জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ কোটি ৩৬ হাজার ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করে। এরপর চলতি বছরের ৩০ জুন সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হয়। স্থানীয়রা জানান, নির্মাণকাজ চলা অবস্থায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে বসে যায়। সে সময় ঠিকাদার দায়সারাভাবে ওই স্থানগুলো সংস্কার করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, ৬ কিলোমিটার সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার দেওভোগ গ্রামের খালের ভেতরের এক পাশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। খালের ভেতরের সড়ক নির্মাণের অংশ বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। তবে বালুর ওপর সামান্য কিছু মাটিও ব্যবহার করা হয়। সড়কের ধস ঠেকাতে খালের নিচে থেকে কার্পেটিং পর্যন্ত আরসিসি ব্লক দেওয়া হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণভাবে বসানোর কারণে এসব ব্লকের জোড়ার স্থান দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে সড়কের ভেতরের বালু ধুয়ে যেতে থাকে। এ ছাড়া ব্লকের মূল ভিত্তিতে খালের মধ্য গাইডওয়াল নির্মাণের কথা থাকলেও পানিপ্রবাহের কারণে অনেক স্থানেই তা নির্মাণ সম্ভব হয়নি। কিছু জায়গায় গাইডওয়াল নির্মাণ করা হলেও শুরু থেকেই তা অর্ধেক হেলে পড়েছিল। এ অবস্থায় গাইডওয়াল ও ব্লকসহ সড়ক ধসে পড়ে।

দেওভোগ গ্রামের বাবুল খান সাংবাদিকদের জানান, সড়ক নির্মাণকাজের শুরু থেকেই অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এলে প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিষয়ে জানানো হয়। তারপরও কাজের মানের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বিএলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা সড়ক ছয় মাস পার না হতেই ধসে পড়ায় আমরা হতাশ। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সড়কের বাকি অংশ যে কোনো সময় ধসে পড়বে।

সড়ক নির্মাণকাজের তদারকি কর্মকর্তা ফরিদপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী ইসলাম আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঠিকাদারের নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটি পুনরায় মেরামত করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সড়ক নির্মাণকাজের মান খুব ভালো ছিল। কিন্তু চলতি বছর বন্যার পানি চলে আসায় শেষ মুহূর্তে কিছু কাজ তড়িঘড়ি করে করা হয়। এতে সড়ক ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে সমস্যা হবে না। ঠিকাদারের পর্যাপ্ত টাকা জামানত হিসেবে অফিসে জমা আছে। তাদের নিজ দায়িত্বেই সড়কটি মেরামত করে দিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে