১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে ইভ্যালির মালিক দম্পতিকে আদালতে পাঠালো পুলিশ

0
43
র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার মোহাম্মদ রাসেল ও শামীমা নাসরিন

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী (ইভালির চেয়ারম্যান) শামীমা নাসরিনকে রাজধানীর সিএমএম কোর্টে হাজির করেছে গুলশান থানা পুলিশ। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে তাদের আলালতে নেওয়া হয়।

১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম।

বর্তমানে তারা আদালতের হাজতখানায় রয়েছেন। রিমান্ড শুনানির জন্য বেলা তিনটায় তাদের আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে তাদের গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গুলশান থানার ওসি আবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরপর রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাদের আদালতে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ওসি আবুল হোসেন বলেন, যে মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেই বিষয়ে বিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য রিমান্ড আবেদন জানিয়ে তাদের আদালতে তোলা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে মোহাম্মদ রাসেল ও শামীমা নাসরিনকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে র‌্যাব-২ ইউনিটের সদস্যরা তাদের বাড়িটি ঘিরে ফেলে।

প্রতারণার অভিযোগে বুধবার রাতে শামীমা নাসরিন ও মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন মো. আরিফ বাকের নামে একজন গ্রাহক, যিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

মামলায় ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেলকে এক নম্বর আসামি ও চেয়ারম্যান শামীমাকে দুই নম্বর আসামি করা হয়। এই মামলায় আরও কয়েকজনকে ‘অজ্ঞাতনামা’ দেখিয়ে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আরিফ বাকের উল্লেখ করেছেন, ইভ্যালির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকার পণ্য অর্ডার করেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পাননি তিনি। নিরূপায় হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ মে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে আরিফ বাকের ও তার বন্ধুরা চলতি বছরের মে ও জুন মাসে কিছু পণ্য অর্ডার করেন। পণ্যের অর্ডার বাবদ সব মূল্য বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন তারা। পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি না পাওয়ায় বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করা হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন আরিফ ও তার বন্ধুরা। একপর্যায়ে ইভ্যালি পণ্য প্রদান ও টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসে যান আরিফ ও তার বন্ধুরা।

মামলার এজাহারে আরিফ উল্লেখ করেন, মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। একপর্যায়ে অফিসের অভ্যন্তরে থাকা রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে এসে তাকে (আরিফ) ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাদের পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদানের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন। এতে তারা আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন জানিয়ে আরিফ এজাহারে আরও উল্লেখ করেছেন, পণ্যগুলো বুঝে না পাওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে