হাতের মুঠোয় গাড়ির গতিবিধি

0
162
মুঠোফোনে গাড়ির সঠিক অবস্থান জানতে সাহায্য করে িজপিএস ট্র্যাকিং।

শখের বাহন দেব না হারাতে’—এমন চিন্তা প্রত্যেক গাড়িমালিকের। প্রিয় গাড়িটি কোথায় কী অবস্থায় আছে, গাড়িটির অপব্যবহার হচ্ছে কি না, গাড়ির জ্বালানি বা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের অপব্যবহার হচ্ছে কি না, এমন আশঙ্কায় ভুগতে হয় অনেককে; বিশেষ করে যাঁরা গাড়ির জন্য চালক নিয়োগ দেন। গাড়ির ওপর নজরদারি এই যুগে তেমন কঠিন বিষয় নয়, যদি আপনার গাড়িতে একটি জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো থাকে।

জিপিএস ট্র্যাকার কী

এটি মূলত গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস–নির্ভর যন্ত্র। এতে মোবাইল ফোনের মতো সিম ব্যবহার করা হয়। জিপিএসের অন্তর্ভুক্ত ৩২টি কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের মাইক্রোওয়েভ সংকেত আদান–প্রদান করে এই যন্ত্র কাজ করে।

জিপিএস ট্র্যাকারটি দেখতে চারকোনা বা আয়তাকার বাক্সের মতো। এর এক প্রান্তে কয়েকটি তারের অগ্রভাগে কানেক্টর সুইচ থাকে। এই সুইচগুলো গাড়ির সঙ্গে যুক্ত করে গাড়িরে অবস্থান অনুসরণ (ট্র্যাকিং) করা হয়। যন্ত্রের মধ্যে থাকে সিম কার্ড স্লট ও সার্কিট। গাড়ির ড্যাশবোর্ড বা ইঞ্জিনের সুইচ কন্ট্রোলারের আশপাশে জিপিএস ট্র্যাকার সংযুক্ত করা যায়। গাড়ির কোনো তার না কেটে গাড়ির ওবিডিটুটু পোর্টেও জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করা যায়। জিপিএস ট্র্যাকার মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জিপিএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে তথ্য পাঠায়। ব্যবহারকারী খুদে বার্তা, অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গাড়ির বর্তমান অবস্থান জানতে পারে।

শুধু জিপিএস নয়, জিপিআরএস, জিএসএম অথবা এলবিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করেও একই ডিভাইসের মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা যায়। বাহনের অবস্থান ম্যাপে জানার পাশাপাশি গাড়ির ভেতরের কথোপকথন (অডিও) এবং দৃশ্য (ভিডিও) দেখার সুবিধাও মেলে কিছু কিছু জিপিএস ট্র্যাকারে। দেশে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জিপিএস ট্র্যাকার যন্ত্র বিক্রি এবং যানবাহনের জন্য জিপিএস যন্ত্রের সেবা দিয়ে আসছে। মোটরবাইক, ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রাক, বাসসহ যেকোনো যানবাহনকে জিপিএস ট্র্যাকার দিয়ে শনাক্ত করা যায়।

ফাইন্ডার

মনিকো টেকনোলজিস লিমিটেড যানবাহন ট্র্যাক করার জন্য যে সেবাটি দিয়ে থাকে, তার নাম ফাইন্ডার (www.finder-lbs.com)। ফাইন্ডারের বেশ কয়েকটি যন্ত্র রয়েছে। মোটরবাইকের জন্য রয়েছে কিংফিশার ও বাটারফ্লাই। তাৎক্ষণিক সময়ে ট্র্যাকিং, ইঞ্জিন চালু বা বন্ধ, ইন্টারনাল ব্যাটারি ব্যাকআপ, পাওয়ার কাট, ইগনিশন, অতিরিক্ত গতির সংকেতসহ নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে গাড়ির চলাচল সীমাবদ্ধ করার সুবিধাও মিলবে ফাইন্ডারের যেকোনো প্যাকেজে। জিওফেন্সের মাধ্যমে গাড়ির গতিবিধি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া যায়। এই সীমানার বাইরে গাড়ি গেলেই ব্যবহারকারী তার মুঠোফোনে সংকেত পাবেন। এ ছাড়া গাড়ির ভেতরের কথা শোনা এবং বলা, জ্বালানি তেলের হিসাব জানার ব্যবস্থাও রয়েছে কিছু কিছু যন্ত্রে।

যন্ত্রগুলোর মূল্য ৪ হাজার ৫০০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ফাইন্ডারের সেবা ব্যবহার করতে হলে মাসিক সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। এর পরিমাণ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।

ফাইন্ডারের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ব্যবসায় উন্নয়ন) বলেন, ‘আমাদের গ্রাহকদের সিংহভাগই করপোরেট খাতের। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়েও যন্ত্রটির চাহিদা বাড়ছে। ২০০৯ সাল থেকে আমরা জিপিএস ট্র্যাকার সেবা দিয়ে আসছি।’

এনট্র্যাক

২০০৯ সাল থেকে জিপিএস ট্র্যাকিং সেবা দিয়ে আসছে এনট্র্যাক (www.nits.com.bd)। এনআইটিএস সার্ভিস লিমিটেড নিটল নিলয় গ্রুপের একটি অঙ্গসংগঠন। এনট্র্যাক তাদের জিপিএস সেবাকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছে। এনট্র্যাক মোটো প্রো, স্ট্যান্ডার্ড এবং এক্স নামে রয়েছে তাদের সেবা।

এনট্র্যাক যন্ত্রের দাম ৪ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৩০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত মাসিক সার্ভিস চার্জ।

রবি ট্র্যাকার

মোবাইল ফোন সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠান রবির রয়েছে জিপিএস ট্র্যাকিং সার্ভিস রবি ট্র্যাকার (https://bit.ly/35EC4IR)। এসএমএস বার্তা (নোটিফিকেশন), অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রবি ট্র্যাকার ব্যবহার করে গাড়ির অবস্থান জানা যায়। জরুরি অবস্থায় গাড়ি বন্ধ করার সুবিধা মিলবে রবি ট্র্যাকারে। এসএমএসের মাধ্যমে পাওয়ার ডিসকানেকশন অ্যালার্ট সম্পর্কে জানা যাবে। রবি সিমে চলে এই যন্ত্র। মোটরবাইকের জন্য যন্ত্রের দাম ৩ হাজার ৫০০ টাকা। ১ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা রয়েছে। গাড়ির জন্য রয়েছে দুটি যন্ত্র। সাধারণ যন্ত্রের দাম ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং কথা শোনার সুবিধাসহ যন্ত্রটির দাম ৬ হাজার ৫০০ টাকা। গাড়ির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোতে ৩ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যাবে।

প্রি–পেইড এবং পোস্ট পেইড সিমের ওপর রবি ট্র্যাকারের মাসিক চার্জ নির্ভর করবে। মোটরসাইকেলের জন্য মাসিক ৩৯৯ টাকা। গাড়ির ক্ষেত্রে প্রি–পেইডের জন্য ৪৯৯ টাকা এবং পোস্ট পেইডের জন্য ৫৩০ টাকা গুনতে হবে।

গ্রামীণফোন ভেহিকেল ট্র্যাকিং সার্ভিস

মোবাইল ফোন সংযোগদাতা গ্রামীণফোনেরও রয়েছে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (https://bit.ly/2DfqMhT)। জিপিএস এবং জিএসএম প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামীণফোন ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম গাড়ির অবস্থান, গতি, ইঞ্জিন অন/অফসহ জিপিএস ট্র্যাকারের সব সুযোগ–সুবিধা মিলবে এ সিস্টেমে। বাড়তি হিসেবে থাকছে বিমাসুবিধা। গ্রামীণফোন ‘এক্সিডেন্টাল অ্যান্ড জেনারেল লাইফ ইনস্যুরেন্স’ সেবাটি বিনা মূল্যে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সার্ভিস ব্যবহারকারীদের জন্য প্রদান করছে। জিপি ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনাজনিত বিমা পাবেন। লাইট এবং স্ট্যান্ডার্ড এই যন্ত্রের দাম ৪ হাজার ৪৯৯ এবং ৮ হাজার ২৫০ টাকা। এসডি, ভ্যাট এবং এসসি ছাড়া প্রতি মাসে এই জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহারকারীদের ৪৯৯ এবং ৬৯৬ টাকা দিতে হবে।

ডুপনো

কনকক্স ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজিস করপোরেশন লিমিটেড ট্র্যাক সলিড ব্র্যান্ডের যে জিপিএস সেবা প্রদান করে থাকে, তার নাম ডুপনো (www.dupno.com)। ডুপনোর রয়েছে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের জন্য বেশ কয়েকটি যন্ত্র। সিএনজি ট্র্যাক করার জন্য ডুপনোর রয়েছে আলাদা যন্ত্র। এ ছাড়া থ্রিজি লাইভ ভিডিও ট্র্যাকিং, বহনযোগ্য জিপিএস ট্র্যাকার, ওবিডি এবং ওবিডিটুটু ট্র্যাকার, মাল্টি ফাংশনাল হাই-এন্ড প্রিমিয়াম ভেহিকেল ট্র্যাকার, ম্যাগনেটিক পানিরোধক ট্র্যাকার, পোর্টেবল কার জিপিএস চার্জার ট্র্যাকার (ভয়েস মনিটরিং) ইত্যাদি রয়েছে ডুপনোর।

ওবিডি পোর্টের জিপিএস ট্র্যাকারগুলো গাড়ির কোনো তার না কেটেই ব্যবহার করা যায়। রয়েছে পানি নিরোধক যন্ত্র। চলন্ত যানবাহনের ভেতরে এবং বাইরের ভিডিও দেখার যন্ত্রও পাওয়া যাবে। যন্ত্রের দাম ৪ হাজার টাকা।

৩ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ডুপনোর জিপিএস ট্র্যাকারগুলো পাওয়া যাবে। মাসিক ফি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।

প্রহরী

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যানবাহনের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত জিপিএস ট্র্যাকারের নাম প্রহরী (www.prohori.com)। প্রহরী হিসেবেই গাড়িকে নিরাপত্তা প্রদান করতে এই ডিভাইস দেশের বাজারে নিয়ে এসেছে অন্যরকম ইলেকট্রনিকস কোম্পানি লিমিটেড। এই ট্র্যাকিং যন্ত্রটি তৈরিতে গবেষণায় ছিল পাইল্যাবস বাংলাদেশ লিমিটেড। অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি এই যন্ত্র ব্যবহার করে গাড়ির দরজা খোলা থাকলেও সে বার্তা পাওয়া যাবে। প্রহরীর যন্ত্রগুলোতে ২০টির বেশি জিপিএস ট্র্যাকারের সুবিধা মিলবে। ব্যক্তিগত ও করপোরেট চাহিদাভেদে চারটি প্যাকেজে সেবা দিচ্ছে প্রহরী।
৪ হাজার ৯৯৯ থেকে ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা পর্যন্ত দাম। মাসিক চার্জ ৪৫০ থেকে ৬৯৯ টাকা। 

ইজিট্র্যাক্স

ইজিট্র্যাক্স ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। ইজিট্র্যাক্স (www.easytrax.com.bd) নামে তাদের রয়েছে ১০টি ডিভাইস। যানবাহনের পাশাপাশি তাদের রয়েছে কিডস ট্র্যাকার। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ছোট শিশুদের সহজে নজরদারির মধ্যে রাখা যাবে। পানি নিরোধক, দুই পাশ থেকেই কথা বলা এবং শোনা, ইমারজেন্সি এবং লো ব্যাটারি অ্যালার্মসহ বেশ কিছু সুবিধাসহ এই যন্ত্রগুলো দেখতে একটি স্মার্টওয়াচের মতো। ৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের এই ডিভাইসে মিলবে তিন মাসের বিক্রয়োত্তর সেবা।

হাইব্রিড গাড়ির জন্য ইজিট্র্যাক্সের রয়েছে ওবিডিটু ভেহিকেল ট্র্যাকিং। ৪ হাজার ৫০০ টাকা দামের এই যন্ত্র গাড়ির ওবিডি পোর্টে যুক্ত করে সহজেই ব্যবহার করা যায়। ড্যাশবোর্ড ক্যামেরাসমৃদ্ধ জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের দাম ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। এই যন্ত্রের সাহায্যে স্মার্টফোনে সহজেই গাড়ির সামনের ভিডিও সরাসির দেখা যাবে। এ ছাড়া গাড়ির এসি অন/অফ নোটিফিকেশন, ফুয়েল মনিটরিং জিপিএস ডিভাইস, পণ্যবাহী গাড়ির পণ্যের অবস্থা জানার ব্যবস্থাসহ জিপিএস ট্র্যাকারের মূল্য মডেলভেদে ৪ হাজার থেকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।

ভিসা বা মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে ইজিট্র্যাক্সের বিল পরিশোধ করা হলে ২০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে।

এমটুএম কমিউনিকেশন

এমটুএম কমিউনিকেশন লিমিটেডের জিপিএস ট্র্যাকারের নাম এমটু্এম কমিউনিকেশন (www.m2mbd.com)। গাড়ির অভ্যন্তরীণ অবস্থা জানা এবং শোনার জন্য তাদের রয়েছে ভিডিও ক্যামেরাসমৃদ্ধ জিপিএস ট্র্যাকার। ৯ হাজার ৯৯৯ টাকায় বেসিক যে ট্র্যাকার পাওয়া যায়, তার সঙ্গে ৩ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত যোগ করে পাওয়া যায় ভিডিও ট্র্যাকার ডিভাইস। কিউভিজিএ মোডে এই ক্যামেরা দিয়ে ছবিও তোলা যাবে। মোটরবাইক ট্র্যাকিংয়ের জন্য তাদের রয়েছে আলাদা যন্ত্র। এগুলের মাসিক চার্জ ৫০০ টাকা। ভিডিওসহ জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহারে প্রতি মাসে ৬০০ টাকা দিতে হবে।

ট্যাসলক জিপিএস

কোনো ধরনের মাসিক চার্জ ছাড়াই জিপিএস ট্র্যাকার যন্ত্র বাজারজাত করছে ট্যাসলক অটো (www.tasslock.com)। এটি ব্যবহারে কোনো ধরনের লুক্কায়িত ফি নেই। ট্যাসলক জিপিএস গাড়িতে সংযুক্ত করা থাকলে গাড়ি বন্ধ করার দুই মিনিট পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যায়। মালিকের অনুমতি ছাড়া এই গাড়ি পুনরায় স্টার্ট করা যায় না। একটি অ্যাপ থেকেই একাধিক গাড়ি নিয়ন্ত্রণের সুবিধা রয়েছে।

 ট্যাসলক জিপিএসে জরুরি প্রয়োজনে পাঁচটি নম্বর রাখা যায়। এতে জিপিএস, জিএসএম, এলবিএস এবং রিমোট সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে। ট্যাসলক ডিভাইসগুলো পানি নিরোধক এবং শতভাগ অ্যান্টি–জ্যামারসমৃদ্ধ।

দুটি ক্যাটাগরিতে ট্যাসলক জিপিএস পাওয়া যায়। যেকোনো ধরনের যানবাহনে ব্যবহার করার ট্যাসলক জিপিএসের দাম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। মোটরবাইকের জন্য যন্ত্রের দাম ২ হাজার ৯৯৯ টাকা। ট্যাসলক কম্বো, যা শুধু মোটরবাইকের জন্য ব্যবহার করা যায়। এর দাম ৩ হাজার ৬৯৯ টাকা।

জিপিএস ট্র্যাকার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দ্বারা অনুমোদিত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে