হাতিরঝিলে চক্রাকার বাসে পানি ছুড়ে মারছে কারা

0
156
হাতিরঝিলের চক্রাকার বাস সেবা।

চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে মারার ঘটনা কিছুটা কমলেও একই কায়দায় রাজধানীর হাতিরঝিলের চক্রাকার বাসে পানি ছুড়ে মারার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। হাতিরঝিলে রাতে বাসে চলার সময় এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে জানিয়েছে যাত্রীরা। পানি ছুড়ে মারা হয়ে থাকে রাত ৮টার পর থেকে ১০টার মধ্যে। এতে বিড়ম্বনায় পড়ছে রাতের হাতিরঝিলে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রীরা।

একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, রাতের বেলায় বাসগুলো চলার সময় বিশেষ করে কিছুটা অন্ধকার পথে এমন ঘটনা ঘটছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসচালক বলেছেন, এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তাঁরা বলছেন, হয়তোবা নিছক মজার ছলে এমন কাজ করছে দুষ্টু ছেলের দল।

গত শুক্রবার রাতের এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হন একজন সংবাদকর্মী সাখাওয়াত হোসেন সুজন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয় থানায়ও ফোন করে এ বিষয়ে জানান তিনি। থানায় কর্তব্যরত কমকর্তা জানান, বিষয়টি তাঁরা দেখবেন। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি সম্পর্কে আর কিছু জানা যায়নি।

কাউন্টারে টিকিট কেটে বাসে উঠছে যাত্রীরা

ওই সংবাদকর্মী পুরো ঘটানার বর্ণনা দিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ‘হাতিরঝিলের বাসে দুর্বৃত্তদের পানি হামলার শিকার হলাম’ শিরোনামে লেখেন, রেলে পাথর ছুড়ে মারা দুর্বৃত্তদের নির্মমতার খবর অনেক পড়েছি। আজ বাসে তেমনই হামলার শিকার হলাম। পাথর নয়, পানি হামলার শিকার! হাতিরঝিলের চক্রকার বাস সার্ভিসে এফডিসি হয়ে রামপুরা আসছিলাম। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ একটা প্রচণ্ড ঝাপটা লাগল। বুঝতেই পারিনি কী হয়েছে! সংবিৎ ফিরে পেয়ে জানলাম, জানালা দিয়ে পানি ছুড়ে মারা হয়েছে। যাত্রীদের চিৎকারেও বাস থামালেন না চালক! এটা হরতাল–অবরোধের সময় নয়…তাঁরা বললেন, এমনটা এখন নাকি প্রায়ই হয়।

ওই সংবাদকর্মী লিখেছেন, পাশের যাত্রীদের জিজ্ঞেস করলাম কোন জায়গায় ঘটনাটা ঘটেছে। কারণ, হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটলে যা হয়! তাঁরা বললেন, মধুবাগ মোড়ে। এরপর মেরুলের কোনায় বাস থেকে নেমে যাত্রী ছাউনিতে স্থির হয়ে বসে ৯৯৯–এ ফোন দিলাম। তাঁরা থানায় যেতে বললেন। আমি বললাম, এটা তো সম্ভব নয়! তবে কাকে বললে এর একটা প্রতিকার পাব? যেন অন্য মানুষ এর জন্য বড় ক্ষতির শিকার না হয়। তাঁরা হাতিরঝিল থানায় ফোন দিতে বললেন এবং ডিউটি অফিসারের ফোন নম্বর এসএমএস করলেন। ফোন দিয়ে ডিউটি অফিসারকে পেলাম। উনাকে ঘটনাটা বললাম। উনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানালেন। এরপর আমার এক সহকর্মীকে বিষয়টি জানালাম হাতিরঝিল কর্তৃপক্ষকে জানাতে। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টা ছোট মনে হতে পারে কিন্তু পানি ছুড়ে না মেরে যদি একটা পানির বোতল কিংবা পাথরের টুকরা ছুড়ে মারা হতো, তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।

২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু হয়। সে সময় যাত্রী ওঠানামার জন্য প্রকল্প এলাকার ১০টি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে রামপুরা, মধুবাগ, এফডিসি মোড়, বউবাজার, শুটিং ক্লাব ও মেরুল বাড্ডার ছয়টি কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে