হাজারি ক্লাবে রোনালদো, ছুটছেন দুর্বার গতিতে

0
152
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কাল ছুঁয়েছেন আরেকটি মাইলফলক। ছবি: এএফপি
পেশাদার ক্যারিয়ারে কাল হাজারতম ম্যাচটি খেললেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারফরম্যান্স করছেন ৩৫ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড

হাজারতম ম্যাচ রাঙাবেন কীভাবে? খুব সহজ। গোল করে!

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অন্তত এভাবে ভাবতে পারেন। গোল করা যে তাঁর কাছে মুড়ি-মুড়কি। কাল পেশাদার ক্যারিয়ারে ১০০০তম ম্যাচেও গোল করেছেন জুভেন্টাস তারকা। সিরি আ-তে এসপিএএলের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করেছেন প্রথমার্ধে। এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ৭২৫তম গোল। ক্লাব ফুটবলে ৮৩৬ ম্যাচের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১৬৪ ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। সব মিলিয়ে তাঁর ম্যাচসংখ্যা দাঁড়াল ১০০০।

এখনো খেলছেন এমন ফুটবলারদের মধ্যে শুধু একজনই রোনালদোর চেয়ে এগিয়ে। তিনি আবার রোনালদোরই ক্লাব সতীর্থ। ঠিকই ধরেছেন। গত বছর পিএসজি থেকে জুভেন্টাসে যোগ দেওয়া ইতালির চিরসবুজ গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। ৪২ বছর বয়সী এ গোলরক্ষকের ১০৮৮ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। বুফন তো তাও গোলরক্ষক। মাঠের ভেতরের অন্যান্য পজিশনে খেলা খেলোয়াড়দের তুলনায় তাঁর দৌড়ান লাগে না বললেই চলে। কিন্তু রোনালদো? ঠিক এই এক কারণেই রোনালদো এখানেও অনন্য!

তবে রোনালদোর এই মাইলফলক ছোঁয়ায় একটা ‘কিন্তু’ আছে। ২০০২ সালে স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন রোনালদো। দলটির মূল দলে তিনি খেলেছেন ৩১ ম্যাচ। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন ২৯২ ম্যাচ। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। ৪৩৮ ম্যাচ। জুভেন্টাসের হয়ে ৭৩ ম্যাচ এবং দেশ পর্তুগালের হয়ে খেলেছেন ১৬৪ ম্যাচ। এ পর্যন্ত তাঁর মোট ম্যাচসংখ্যা দাঁড়ায় ৯৯৮। স্পোর্টিং লিসবনের ‘বি’ অর্থাৎ রিজার্ভ দলে খেলা ২ ম্যাচ হিসেবে নিলে রোনালদোর ম্যাচসংখ্যা দাঁড়ায় ১০০০। পর্তুগিজ ক্লাবটির মূল দলে অভিষেকের পর ‘বি’ দলের হয়ে খেলেছিলেন রোনালদো।

৩৫ বছর বয়সী রোনালদো বয়সের সঙ্গে যেন আরও বেশি করে পরিণত হয়েছেন। ইউনাইটেডে থাকতে ২০০৬-০৭ মৌসুমে ২৩ গোল করেছিলেন রোনালদো। তখন তাঁর বয়স ছিল ২১ বছর। এরপর কোনো মৌসুমেই এর চেয়ে কম গোল করেননি রোনালদো। দেশের জার্সিতেও ঠিক তাই। ২০০৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর প্রথম ১০ বছর গোলসংখ্যা দুই অঙ্কে নিতে পারেননি তিনি। তারপর থেকে অবশ্য গোল করায় তিনি যথেষ্ট ধারাবাহিক।

রোনালদোর দুর্দান্ত ফর্মে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাব ক্যারিয়ারে ‘লস ব্লাঙ্কোস’দের হয়েই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ৪৩৮ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৪৫০। স্পোর্টিংয়ের হয়ে করেছেন ৩১ গোল, ইউনাইটেডের হয়ে ১১৮, পর্তুগালের হয়ে ৯৯ এবং জুভেন্টাসের হয়ে এ পর্যন্ত ৫৩ গোল। রোনালদোর এই ৭২৪ গোলের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ সেভিয়া। স্প্যানিশ ক্লাবটির বিপক্ষে ২৭ গোল করেছেন তিনি। ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন টটেনহামের জালে—১০।

২০০২ সালের ১৪ আগস্ট স্পোর্টিংয়ে হয়ে ১৭ বছর ১৯০ দিন বয়সে অভিষেক ঘটেছিল রোনালদোর। ইউনাইটেডের হয়ে অভিষিক্ত হন ক্যারিয়ারের ৩৪তম ম্যাচে। ৮০তম ম্যাচে এসে জিতেছেন প্রথম বড় শিরোপা—এফএ কাপ। ইউনাইটেডের হয়ে। মাঝে দুই ম্যাচ পর জাতীয় দলের জার্সিতে পেয়েছেন প্রথম গোলের দেখা। এরপর ক্যারিয়ারের ৩০৩তম ম্যাচে গিয়ে পেয়েছেন প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা। ৩৯৩তম ম্যাচে গোলের খাতা খুলেছেন রিয়ালের হয়ে। ৫১৮তম ম্যাচে রিয়ালের হয়ে করেছেন গোলের ‘সেঞ্চুরি’। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম হ্যাটট্রিক পেয়েছেন ৫৭৭তম ম্যাচে।

৬৩৩তম ম্যাচে গিয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন দেশের হয়ে। এক ম্যাচে প্রথম ৫ গোলের দেখা পেয়েছেন ৭৩১তম ম্যাচে। ৭৫৮তম ম্যাচে গিয়ে ভেঙেছেন রিয়ালের হয়ে গোলের রেকর্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গোলের সেঞ্চুরি করেছেন ৮৪৯তম ম্যাচে। ৯০১তম ম্যাচে গিয়ে পেয়েছেন হ্যাটট্রিকের ‘ফিফটি’। ৯২১তম ম্যাচে গোলের খাতা খুলেছেন জুভেন্টাসের হয়ে। আর কাল ১০০০তম ম্যাচে এসে ইতালিয়ান লিগে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোলের রেকর্ডে ভাগ বসালেন রোনালদো।

রোনালদো যেন ওয়াইন—বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গুণ-মান-স্বাদ!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে