সড়ক আইন যেন আর এক মিনিটও পেছানো না হয়: ইলিয়াস কাঞ্চন

0
185
চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

নতুন সড়ক আইন দুই সপ্তাহ পেছানোর প্রতিবাদ জানিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল নতুন এই আইনটি ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি চাই না আর এক মিনিটও এটি পেছানো হোক।

শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন। গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর গুলশানে সড়ক দুর্ঘটনায় পপি ত্রিপুরা নামে এক নারীর মৃত্যুর বিচারের দাবিতে ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম, বাংলাদেশ ত্রিপুরা খ্রিষ্টিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসসহ অনেকেই বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও অভিভাবকরা মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, নতুন সড়ক আইনটি অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে বলে অনেকে দাবি করছেন। জরিমানা এবং শাস্তি কমিয়ে দিলে যেন আরও বেশি বেশি মানুষ মারতে পারেন, তারা কি সেটি আশা করছেন? আমরা তো আরও কঠোর শাস্তি চেয়েছিলাম। আমাদের দাবি পরিপূর্ণভাবে পূরণ হয়নি। কিন্তু এর পরও যেটি এসেছে, আশা করব অনতিবিলম্বে পুরোপুরিভাবে সেটি কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, ২৬ বছর আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলাম। পপি ত্রিপুরার জন্য আজকে এখানে দাঁড়াতে হবে, তা আশা করিনি। প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় অজস্র প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। নতুন আইনটি সত্যিকার অর্থে কার্যকর করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা ৭০ ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে বিশ্বাস করি। আইনটি প্রধানমন্ত্রী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সুতরাং এটি নিয়ে টালবাহানা করা ঠিক হবে না।

সড়ক দুর্ঘটনায় পপি ত্রিপুরার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একজন, আইনজীবী, পুলিশের মধ্য থেকে একজনকে নিয়ে অন্তত তিন-চারজনের কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যেন পপি ত্রিপুরা হত্যার বিচার করা হয়।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, যখন নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তখনই পপি ত্রিপুরার হত্যাকাণ্ড ঘটল। এটাকে কি আমরা নিছক দুর্ঘটনা বলব? নতুন সড়ক আইনের আওতায় পপি ত্রিপুরাকে চাপা দেওয়া গাড়ির চালকের মৃত্যুদণ্ড হওয়া দরকার। পপি রিকশা থেকে পড়ে যাওয়ার পরও তার শরীরের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃত্যু ঘটতে পারে জেনেও গায়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ওই চালক পপিকে হত্যা করেছেন। সেই চালকের কোনো লাইসেন্স ছিল না। গাড়িটির ফিটনেস সার্টিফিকেট ছিল কি-না, তাও জানি না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে