স্বামীকে অনুমতি দিয়ে ফেঁসে যান ডেমি মুর

0
445
ডেমি মুর। ছবি: রয়টার্স

আগামীকাল মঙ্গলবার বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হারপার কলিন্স থেকে প্রকাশিত হবে ডেমি মুরের আত্মকথা ‘ইনসাইড আউট’। হলিউডে ৩৮ বছর হলো ডেমি মুরের। এবার ৫৬ বছর বয়সী মুরের এই বই প্রকাশিত হওয়ার আগেই এই বইয়ে থাকা বিভিন্ন বিষয় শিরোনাম হয়ে তোলপাড় তৈরি করেছে। এক সফল হলিউড তারকার জীবনের নানা আলো-আঁধারির গল্প সামনে আসছে।

রাডার অনলাইনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই বইয়ে ডেমি মুর জীবনের সব সত্যকে নিঃসংকোচে সামনে এনেছেন। সেখানে আছে ১৫ বছর বয়সে তাঁকে ধর্ষণের ঘটনা থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছু। ১৩ বছর পর্যন্ত মুর তাঁর বায়োলজিক্যাল বাবার পরিচয় জানতেন না। ড্যান গাইনেসকেই নিজের জন্মদাতা বাবা বলে জানতেন তিনি। একদিন নিজের মা-বাবার বিয়ের সার্টিফিকেট হাতে পান। সেখানে দেখতে পান, তাঁর বাবা আর মায়ের বিয়ে হয়েছে ১৯৬৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। কিন্তু তিনি তো জন্মেছেন ১৯৬২ সালের নভেম্বরে।

ডেমি মুরের মা-বাবা দুজনই ছিলেন মদ্যপ। তাঁদের বীভৎস ঝগড়া আর মারামারি দেখে শৈশব কেটেছে তাঁর। সেই ড্যান গাইনেস ১৯৮০ সালে আত্মহত্যা করেন। মা ভার্জিনিয়া অতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। তখন মায়ের মুখ থেকে জোর করে ট্যাবলেট বের করে মাকে রক্ষা করেছিলেন ডেমি মুর। ব্রুস উইলিসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ, অ্যাস্টন কুচারের সঙ্গে প্রেম, সেই প্রেমের সময়ে ছয় মাসের গর্ভাবস্থায় সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা, কুচারের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি—এই সবই লিখেছেন অকপটে।

১৫ বছরের ছোট অ্যাস্টন কুচারকে বিয়ের দুই বছর পর ডেমি মুর তাঁর পদবি পরিবর্তন করে ‘কুচার’ করেন। যদিও ‘মুর’ নামেই চলচ্চিত্রজগতে তিনি পরিচিত। ২০০৫ সালের সেই বিয়ে শেষ হয় ২০১৩ সালে এসে। বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসেবে মুর বলেছেন, অ্যাস্টন কুচারের বিবাহবহির্ভূত একাধিক সম্পর্ক ছিল, যা মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।

ডেমি মুর ও অ্যাস্টন কুচার। ছবি: রয়টার্স

প্রথমবার যখন মুর ছয় মাসের সন্তান হারান, তারপর নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় তাঁর। অনেকবার ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (আইভিএফ, টেস্টটিউবে ডিম্বাণু আর শুক্রাণু নিষিক্তের পর তা মাতৃগর্ভে স্থাপন) চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অ্যাস্টন কুচার তৃতীয় পক্ষকে তাঁদের বিবাহিত জীবনের মাঝখানে আনতে চান। আর সে শরীরচর্চা নির্দেশক সারাহ লিল। ডেমি মুর প্রথমে ভেবেছিলেন, বিষয়টি মেনে নিয়ে দেখাবেন, তিনি কত উদার।

ডেমি মুর তাঁর বইতে লিখেছেন, ‘আমি কত উদার আর মহৎ, তা দেখাতে চেয়েছিলাম কুচারকে। সেই সিদ্ধান্ত ছিল চরম ভুল। আমি তো হ্যাঁ বলেছিলাম। তাতে তাঁর এই সম্পর্ক বৈধতা পেয়েছিল। আর আমদের সম্পর্ক দিনে দিনে আবছা হয়ে যাচ্ছিল। আমি এভাবেই আড়ালে চলে যাই।’

২০১১ সালেই অ্যাস্টন কুচারের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানেন মুর। ২০১৩ সালে কাগজে-কলমে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরই মধ্যে ‘দ্যাট সেভেন্টিস শো’ টিভি সিরিজে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মিলা কুনিসকে মন দিয়ে বসেন কুচার। ২০১২ সালের এপ্রিলে তাঁদের প্রেম শুরু হয়। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের বাগদান হয়। ২০১৫ সালে বিয়ে করেন তাঁরা।

ডেমি মুর। ছবি: রয়টার্স

রুমার (৩০), স্কাউট (২৭) ও তালুলাহ (২৫)—এই তিন কন্যার মা ডেমি মুর আর কোনো সম্পর্কে জড়াননি। এই তিন সন্তানের বাবাই হলিউড তারকা ব্রুস উইলস। সেই ১৯৯৮ সালে এই জুটি বিবাহিত সম্পর্কের ইতি টানলেও এখনো তাঁরা খুব ভালো বন্ধু।

হারপার কলিন্সের প্রকাশক জেনিফার বার্থের মতে, ‘ইনসাইড আউট’ প্রথমত এবং প্রধানত একজন সংগ্রামী নারীর গল্প। যিনি বারবার আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন। আমার মনে হয়ে, পাঠকেরা এই বই পড়ে অবাক হবেন। এই বই তাঁদের প্রভাবিত করবে। হারপার কলিন্স বইটি প্রকাশ করতে যাচ্ছে বলে খুবই গর্বিত।’

অ্যাস্টন কুচার ও ডেমি মুর। ছবি: রয়টার্স

১৯৯১ সালে ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ ম্যাগাজিনে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নগ্ন হয়ে কভারে এসেছিলেন ডেমি মুর। উদ্দেশ্য ছিল ‘হলিউড-বিরোধী, চাকচিক্য-বিরোধী’ মনোভাব প্রকাশ করা এবং মাতৃত্বের শক্তির জয়গান করা। কিন্তু ওই ছবি ব্যাপক সমালোচিত হয় ও বিতর্কের সূত্রপাত ঘটায়। এবার ৫৬ বছর বয়সে একইভাবে খোলামেলা হয়ে ‘হারপারস বাজার’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের মডেল হিসেবে সাড়া ফেলেন ডেমি মুর।

এবার ‘ইনসাইড আউট’ বইয়ের প্রচারণার জন্য খোলামেলা সাক্ষাৎকারের রূপক হিসেবে এভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, হলিউডের অভিনয়শিল্পী, লেখক, পরিচালক ও প্রযোজক লিনা ডানাম। সাক্ষাৎকারে মুর বলেন, ‘আমি একজন নারী, মা ও স্ত্রী। আমার আদর্শ আর অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষা আর সততা আমার পবিত্রতা। এই সবই আমার আত্মার ভেতর প্রবাহিত হয়।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.