স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক

0
557
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারতের পুলিশ বাহিনী একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। একইভাবে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করবে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে। বুধবার ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে আসামের এনআরসি প্রসঙ্গ তোলা হবে বলে ভারতীয় কিছু সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রেস বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে অবশ্য এই প্রসঙ্গের কোনো উল্লেখ নেই। এর আগে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের যে ছয়টি বৈঠক হয়েছিল, তার কোনোটিতেই ভারত এনআরসি প্রসঙ্গ তোলেনি।

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় দফার শাসনামলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অমিত শাহ। একই সঙ্গে তিনি শাসক দলের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের এটাই প্রথম বৈঠক। এই বৈঠকের মধ্য দিয়েই দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমবার একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হলেন।

বুধবার সন্ধ্যায় নর্থ ব্লকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সপ্তম দফার বৈঠকে যে যে বিষয় প্রাধান্য পায় সেগুলোর মধ্যে ছিল স্থল সীমান্ত চুক্তি ও তার প্রটোকল বাস্তবায়নের পর্যালোচনা। এরই পাশাপাশি পর্যালোচিত হয় জঙ্গিবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো। দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই মনে করেন, উপমহাদেশে সার্বিক নিরাপত্তা এই দুই বন্ধু দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। সেই কারণে তথ্য আদানপ্রদানের প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট। জাল নোট, মাদক, মানব পাচারসহ সংঘবদ্ধ অপরাধের যৌথ মোকাবিলার পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচিত হয়।

সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টি এবার প্রথম আলোচনায় যুক্ত হয়েছে। প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশই সীমান্ত সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে সভায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের জমিকে সন্ত্রাসবাদী কাজে ব্যবহৃত হতে না দেওয়ার যে সংকল্প ও নীতি বাংলাদেশের সরকার নিয়েছে, অমিত শাহ তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশই মনে করে নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুই দেশই দিনে দিনে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গও ওঠে। অমিত শাহ আশ্বাস দিয়ে বলেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদে ও দ্রুত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ভারত সহযোগিতা করবে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আসাদুজ্জামান খান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.