স্বপ্নের বাড়িতে স্বস্তির জীবন

0
159
সরকারের কাছ থেকে পাওয়া বাড়ির সামনে দিনমজুর ফয়েজ ও তাঁর স্ত্রী। সম্প্রতি উখিয়ার হালুকিয়া গ্রামে।

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের হালুকিয়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষ হতদরিদ্র। বাপদাদার ভিটায় পলিথিনের ছাউনিযুক্ত ছোট ঝুপড়ি ঘরে কষ্টে দিন কাটত দিনমজুর ফয়েজ আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। বৃষ্টি এলে ফুটো ছাদ দিয়ে পানি পড়ত। তবে জীর্ণ বাড়িতে থাকার দিন এখন অতীত হয়েছে। তাঁর নিজের এক চিলতে জমিতে পাকা বাড়ি করে দিয়েছে সরকার। এমন একটা বাড়িতে থাকতে পেরে ফয়েজের পরিবারের সদস্যরা কষ্টের কথা ভুলে গেছেন। স্বপ্নের বাড়িতে তাঁদের জীবন এখন স্বস্তির।

গত ২৮ অক্টোবর ফয়েজ আহমেদ (৪৫) নতুন পাকা বাড়ি বুঝে পান। তিনি বলেন, ‘এমন একটা পাকা বাড়িতে থাকতে পারব জীবনেও কল্পনা করিনি। নিজের একখণ্ড ভিটায় বিনা মূল্যে বাড়িটি তৈরি করে দেয় সরকার। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। তিনি গরিবদের কথা মনে রাখেন।’

ফয়েজ আহমদের মতো জমি আছে তবে বাড়ি করার সামর্থ্য নেই জেলার এমন ১০৯টি গৃহহীন ও হতদরিদ্র পরিবার সরকারের কাছ থেকে বাড়ি উপহার পেয়েছে। গত অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে জেলার আট উপজেলার গৃহহীনদের নতুন বাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গ্রামীণ অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) এবং অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দে গৃহহীনদের জন্য পাকা বাড়িগুলো তৈরি হয়েছে। প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে খরচ হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।

প্রায় ২ শতাংশ জমিতে (৮০০ বর্গফুট) তৈরি এসব টিনশেড সেমিপাকা বাড়িতে একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও দুটি থাকার কক্ষ রয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সোলার প্যানেল এবং পাশে আলাদা টয়লেটও রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রইস উদ্দিন বলেন, জেলার আটটি উপজেলায় এ পর্যন্ত ১০৯ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০৯টি পাকাবাড়ি হস্তান্তর হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার ১২টি করে, মহেশখালীতে ১৭টি, কক্সবাজার সদরে ১১টি, রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ১৫টি করে বাড়ি তৈরি করা হয়। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ী এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। জমি আছে ঘর নাই—এমন দরিদ্ররা অগ্রাধিকার পেয়েছেন।

উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালংয়ের ফয়েজ আহমদের বাড়ির আধা কিলোমিটার দূরে পাতাবাড়ি গ্রামের দিনমজুর রহিম উল্লাহও বিনা মূল্যে পেয়েছেন পাকা বাড়ি। চার দিন ধরে স্ত্রীকে নিয়ে নতুন বাড়িতে উঠেছেন তিনি।

রহিম উল্লাহ (৩৫) বলেন, ‘লোকজনের খেতখামারে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে দুই সদস্যের সংসার চলে। কাজ করতে না পারলে একটু সমস্যা দেখা দেয়। জীবনে কখনো পাকা বাড়ির মালিক হব স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন তা বাস্তবতা। পাকা বাড়ি পাওয়াতে দুশ্চিন্তা কমেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ আমরা।’

 উখিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ‘গ্রাম হবে শহর’ এ কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১৫টি পাকাবাড়ি তৈরি হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সুবিধাভোগীদের নিকট বাড়িগুলোর কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকা যাচাই–বাছাই করে অতিদরিদ্র, গৃহহীন ও দুস্থদের মাঝে বাড়িগুলো বরাদ্দ হয়েছে।

কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান বলেন, সরকারের সফল কর্মসূচির মধ্যে বিনা মূল্যে হতদরিদ্রদের মাঝে পাকাবাড়ি বরাদ্দের এ প্রকল্পটি অন্যতম। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী এ প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। গ্রামে গ্রামে এ প্রকল্পের বিস্তৃতি ঘটলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে সমাজের পিছিয়ে পড়া বিপুল জনগোষ্ঠী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে