স্কুলছাত্রকে চলন্ত বাসের নিচে ফেলে হত্যা

0
325
নিহত রশীদ

রংপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে কুপিয়ে আহত করে চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর টেক্সটাইল মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রশীদ (১১) সাতগাড়া মিস্ত্রিপাড়া এলাকার শহিদার রহমানের ছেলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে রশিদের বড় ভাই মোহনের (৩০) কাছে ৫’শ টাকা দাবি করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোজাফফর হোসেন। মোহন টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করে মোজাফফর। এ ঘটনার বিচার দাবি করে মোজাফফরের বাবা কামালের কাছে অভিযোগ করেন মোহন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় মোজাফফর। বৃহস্পতিবার রাতে রশীদ টেক্সটাইল মোড়ে বাজার করে বাড়ি ফেরার পথে মোজাফফর ও তার সহযোগীরা রশীদকে আটক করে লাঠি দিয়ে পেটায় ও ছোরা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে রশীদকে চলন্ত একটি বাসের নিচে ফেলে দেয় তারা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রশীদ। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রশীদের ফুফু নাজমা বেগম বলেন, আমি জরুরি কাজে টেক্সটাইল মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পাই রশীদকে মোজাফফর ও তার সহযোগী মন্টি, জয়, বেলালসহ কয়েকজন ছোরা দিয়ে কোপাচ্ছে। আমি দৌড়ে গিয়ে রশীদকে রক্ষা করার চেষ্টা করি। কিন্তু সন্ত্রাসীরা আমাকে ফেলে দিয়ে রশীদকে কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে মহাসড়ক দিয়ে একটি বাস আসার সময় তারা চলন্ত বাসের নিচে রশীদকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে।

রশীদের বড় ভাই মোহন বলেন, মোজাফফর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে যার তার কাছে চাঁদা দাবি করে, জোড় করে টাকা কেড়ে নেয়। স্কুল-কলেজের মেয়েদের ওড়না ধরে টান দেয়। প্রতিবাদ করলেই দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করে প্রতিবাদকারীকে। আমি টাকা দেইনি এবং তার বাবার কাছে বিচার দিয়েছি। এ কারণে আমার ছোট ভাইকে নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর পুলিশ কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশীদ জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা শহিদার রহমান  শুক্রবার দুপুরে ৫-৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে