সোনার দেশ গড়ে বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ শোধ করব: প্রধানমন্ত্রী

0
531
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর ৪৪ তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তৃতা করেন। ১৬ আগস্ট, ঢাকা। ছবি: বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁর দৃঢ় আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘এর মাধ্যমেই আমরা জাতির পিতার রক্তঋণ শোধ করব।’

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘জাতির পিতা বলেছিলেন, প্রয়োজনে বুকের রক্ত দেব। আর সেই রক্তই তিনি দিয়ে গেছেন। আর আমাদের সেই রক্তঋণ শোধ করতে হবে তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিতা, তোমাকে কথা দিলাম আজকের দিনে, তোমার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্মরণসভায় সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর ৪৪ তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ সভার আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তাঁর আদর্শ আমাদের মাঝে আছে। সেই আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি।’

এ সময় এ দেশের মানুষের আস্থা-বিশ্বাস নিয়ে এবং সম্মান ধরে রেখে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু এইটুকুই বলব, আজকের দিনে শোকগাথা বুকে নিয়েও এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। শুধু আমার বাবার কথা চিন্তা করেই, তিনি কীভাবে কষ্ট সহ্য করেছেন, কীভাবে জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন এই দেশের জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশকে গড়ে তুলে জাতির পিতা যখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই চরম আঘাতটা আসে। অথচ তিনি বেঁচে থাকলে অথবা আর ৩/৪টা বছর বেঁচে থাকলেই বাঙালি জাতিকে একটা মর্যাদার আসনে নিয়ে আসতেন। তাহলে বাংলাদেশের মানুষকে অনাহার-অর্ধাহারে থাকার কষ্ট, বোমাবাজি, হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের কষ্ট আর ভোগ করতে হতো না। বাংলাদেশ বিশ্বে অনেক আগেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত।

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাকরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘সব হারিয়ে পেয়েছিলাম লাখো মানুষ। তাদের আপন করে নিয়েছি। আর আওয়ামী লীগের অগণিত নেতা-কর্মী, মুজিব আদর্শের সৈনিক—তারাই আমাকে আপন করে নিয়েছে। সেখানেই পেয়েছি বাবা-মা-ভাইয়ের ভালোবাসা। এটাই আমার সব থেকে বড় শক্তি।’

স্মরণসভায় বঙ্গবন্ধু এবং অন্যান্য শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ১৬ আগস্ট, ঢাকা। ছবি: পিআইডি

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জিনিসই মাথায় রেখেছি যে, আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন, এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। এ দেশের মানুষকে মানুষের মতো বাঁচার সুযোগ করে দিতে হবে, উন্নত জীবন দিতে হবে, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে আজ বাংলাদেশকে বিশ্বে একটা মর্যাদার আসনে নিয়ে এসেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ সারা বিশ্ব বাংলাদেশের দিতে তাকিয়ে থাকে। তারা অবাক হয়, এত দ্রুত কীভাবে একটা দেশ উন্নত হতে পারে?’ উত্তরে তিনি নিজেই বলেন, ‘হতে পারে তখনই যখন একটি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করে এবং নীতি-আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করে, তারা যদি ক্ষমতায় থাকে, তাহলেই একটা জাতি উন্নত হয়, তাহলেই একটা জাতি এগিয়ে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘যারা পরাজিত শক্তির দোসর, তারা যদি ক্ষমতায় থাকে, তাহলে কোনো জাতি এগোয় না, কোনো জাতিই উন্নতি করতে পারে না।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আবদুল মতিন খসরু, দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সভায় বক্তৃতা করেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতা মেরিনা জামান অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন।

দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে