সোনাই এখন সবচেয়ে খাঁটি

0
359
সোনা মজুদের সেরা দশ দেশ

বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনাই সবচেয়ে খাঁটি। শেয়ারবাজার যেখানে টালমাটাল, বন্ডের বাজারে যখন অস্থিরতা, তখন সোনার দাম তর তর করে বাড়ছে।

যদিও প্রথাগত বিনিয়োগমাধ্যম আকর্ষণ হারিয়ে ফেলার কারণেই সোনার এমন বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। কিন্তু সোনা সাধারণত মানুষকে হতাশ করে না, অন্যান্য বিনিয়োগ মাধ্যম যা করে থাকে। তাই দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববাজারে সোনার দাম (স্পট মার্কেট) আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৫৩৯ ডলার। এমনকি তা ১ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন। রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ সূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে।

স্পট মার্কেটে সোনার দাম এর আগে ২০১৩ সালের মে মাসে ১ হাজার ৪৬৯ ডলারে উঠেছিল। মাঝের কয়েক বছর সোনার দাম ওঠানামা করলেও চলতি বছরের ১ জুন থেকে সোনার দাম বাড়তে শুরু করে। ব্যাপারটা হলো, মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি ডলারের মান পড়ে যাওয়াও বিনিয়োগকারীদের এই সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করছে। উল্লেখ্য, সোনাও ডলারের মতো একধরনের মুদ্রা। তাই ডলার দুর্বল হলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনায় রিজার্ভ রাখে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নতুন করে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপ করায় চীন বলেছে, তারাও এর জবাব দেবে। ইউএস গ্লোবাল ইনভেস্টরসের প্রধান বাণিজ্য কর্মকর্তা মাইকেল মাতৌসেক রয়টার্সকে বলেছেন, এই শুল্ক ও চীনের প্রতিশোধ নেওয়ার খবরেই সোনার বাজারদর বাড়ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা, বন্ডের সুদহার ঋণাত্মক হয়ে যাওয়া, চলমান মুদ্রাযুদ্ধ—এসব কারণে সোনার চাহিদা বাড়ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সোনার বাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী। এর দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে। এটি সম্ভবত নতুন আরেকটি ধারার শুরু। তাঁরা এ-ও বলছেন, সোনার দাম আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬০০ ডলারে ওঠার সম্ভাবনা আছে। এরপর দাম সেখানে স্থিতিশীল হবে।

আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ফিলিপ ফিউচারের বিশ্লেষক বেঞ্জামিন লু রয়টার্সকে বলেন, সোনার নিকট-ভবিষ্যৎ বেশ উজ্জ্বল বলেই মনে হচ্ছে। এসব অস্থিরতা, প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা, অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্তের দুর্বলতা—এসব কারণে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্র হবে সোনা।

অন্যদিকে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ার সূচকের পতন হচ্ছে। এতেও সোনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে সোনার কদর বেড়েছে।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ায় বাংলাদেশের বাজারেও ইতিমধ্যে তিন দফা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ২২ ক্যারেট সোনা ভরিপ্রতি ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আগামী ২০২০ সালে মার্কিন নির্বাচন পর্যন্ত বাণিজ্যযুদ্ধ চলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সে কারণে শেয়ারবাজার ও মুদ্রাবাজার একরকম অস্থিরই থাকবে। সেই সুযোগে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬০০ ডলারে উঠে যেতে পারে বলেই বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে