সেই বৃদ্ধ বর গ্রেফতার, ছাত্রী উদ্ধার

0
95
সামছুল হক

কিশোরীকে বিয়ে করা সেই বৃদ্ধ রিকশাচালক সামছুল হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার উপজেলার হরিশ্চর এলকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ওই কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়।

ওই ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পেরুল গ্রামের এক ব্যক্তি ঢাকায় চাকরি করায় গ্রামে বসবাস করা তার পরিবারের দেখাশুনা করতেন পেরুল দীঘিরপাড়ার রিকশাচলক সামছুল হক। ওই ব্যক্তির ২য় মেয়ে স্থানীয় পেরুল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সামছুল হক নিজের রিকশায় তাকে নিয়মিত স্কুলে আনা নেওয়া করতেন। একপর্যায়ে সামছুল হক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে কথিত প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়ই তিনি ওই বাড়িতে রাত্রিযাপন করতেন। এনিয়ে স্থানীয়রা আপত্তি করলে তিনি প্রাপ্ত বয়স হলে কিশোরীর সঙ্গে নিজের ছেলে মনিরের বিয়ে হওয়ার কথা এলাকায় প্রচার করেন। কিন্তু গত ১০ মে সামছুল হক ৫২ বছরের ছোট কিশোরীকে নিয়ে উধাও হয়ে যান। এনিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ১১ মে পেরুল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান লোকমারফত সামছুল হক ও কিশোরীকে ইউপি কার্যালয়ে হাজির করে বিস্তারিত জানতে চান। ওই সময় সামছুল হক কিশোরীর প্রাথমিক শিক্ষা সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ ও বিয়ের কাবিননামা উপস্থাপন করেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সনদ ও জন্মনিবন্ধনে তার জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ২ ফেব্রুয়ারি ২০০২।

কাবিননামায় দেখা যায়, ১০ মে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৭নংওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমান সরকারের কার্যালয়ে ৫লাখ টাকা মোহরানায় তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। এতে সামছুল হকের জন্মতারিখ ৩ জানুয়ারি ১৯৫৫ উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে কিশোরীর মা বাদী হয়ে সামছুল হকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২/৩জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে লালমাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে লালমাই থানার এসআই মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ উপজেলার পেরুল উত্তরের হরিশ্চর স্কুল সংলগ্ন হাবিব স্যারের ভাড়া বাসা থেকে সামছুল হককে আটক করেন। এসময় পুলিশ তার হেফাজত থেকে ওই কিশোরীকেও উদ্ধার করে।

লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, বৃদ্ধ সামছুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার হেফাজত থেকে অপহৃতাকেও উদ্ধার করেছি। শুক্রবার সকালে কিশোরীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও জবানবন্দী রেকর্ডের জন্য কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে