সীমাবদ্ধতা কাটাতে চায় বিএসটিআই

আজ বিশ্ব মান দিবস

0
1047
বিএসটিআই

অনেক প্রতিষ্ঠান মানহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে বাজারে ছাড়ছে। রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নিয়মিত বাজার তদারকিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরি এবং ওজনে কারচুপিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ছে। মানহীন খাদ্যপণ্য নিয়ে আতঙ্কে থাকছেন ক্রেতারা। রাষ্ট্রায়ত্ত মান সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পণ্যের মান নির্ধারণ ও নিশ্চিত করার কাজ করছে। কিন্তু সংস্থাটির জনবল সংকট ও সক্ষমতার অভাবে চাহিদা অনুযায়ী সেবার পরিধি বাড়াতে পারেনি। নানা সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারের নীতি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।

এমন পরিস্থিতিতে আজ ৫০তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপন করছে বাংলাদেশ। পণ্য এবং সেবার মানের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালন করা হয়। এ বছরের বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভিডিও মান বৈশ্বিক সম্প্রীতির বন্ধন’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া দিবসটিকে সামনে রেখে আরও বাণী দিয়েছেন- শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল হালিম আলাদা বাণী দিয়েছেন।

মানুষের উদ্বেগ বেশি থাকলেও অনেক খাদ্যপণ্যে বিএসটিআইর নির্ধারিত মান নেই। বর্তমানে ১৮১টি পণ্যের মান নিশ্চিত করা বিএসটিআইর জন্য বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে মাত্র ৭৬টি খাদ্যপণ্য। বাকি খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করা বিএসটিআইর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে বাধ্যতামূলক পণ্যের বাইরে অন্য পণ্যের গুণগত মান সঠিক কি-না তাও যাচাই করে বিএসটিআই। শুধুমাত্র কেউ চাইলেই এ সেবা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

বিএসটিআইর মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, বিএসটিআইর সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত সক্ষমতা দিয়ে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এ সংস্থা। বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে পণ্যের মান প্রণয়ন ও বাধ্যতামূলক পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সারাদেশে পণ্য ও সেবার মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্থার মাত্র ৪০০ জনবল রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ জনবল দিয়ে বাধ্যতামূলক পণ্যের মান নিশ্চিত করাও অনেক ক্ষেত্রে দুরূহ।

ভোক্তার আস্থা অর্জনে বিএসটিআইকে নানা কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে অবৈধভাবে মান চিহ্ন ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি রোধে এক বছর আগে মোবাইল অ্যাপস তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়; কিন্তু সক্ষমতার অভাবে এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই অ্যাপস তৈরি হলে ভোক্তা তাৎক্ষণিক সঠিক মান যাচাই করে পণ্য কিনতে পারবেন। মন্ত্রণালয় আরও নির্দেশনা দিয়েছে, প্রত্যেক এলাকায় নিয়মবহির্ভূত পণ্য উৎপাদন বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে। বিএসটিআইর অনুমোদনহীন ও মানহীন পণ্য বিক্রি হলে কর্মকর্তাকে দায়ী করা হবে।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস (বিডিএস), কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন (সিএসি), আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও), আন্তর্জাতিক ইলেকট্রোটেকনিক্যাল কমিশন (আইইসি), আমেরিকান সোসাইটি ফর টেস্টিং অ্যান্ড ম্যাটারিয়ালস (এএসটিএম) মান অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ করে বিএসটিআই। বিএসটিআই গত এক বছরে প্রক্রিয়াজাত কৃষি ও খাদ্যপণ্যে ২৯টি, রসায়নে ৩১টি, পাট ও বস্ত্রে ২৭টি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্সে ২৪টি ও প্রকৌশলে ৬২টিসহ মোট ১৭৩ পণ্যের মান নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে বিডিএস মান বা বিএসটিআইর ৪১টি ও অন্য সংস্থার ১৩২টি। বিএসটিআই যাত্রা শুরু থেকে গত জুন পর্যন্ত চার হাজার ৩০৪টি পণ্যের মান নির্ধারণ ও অন্য সংস্থা থেকে মান গ্রহণ করেছে। বর্তমানে বিএসটিআই নির্ধারিত বিভিন্ন পণ্যের তিন হাজার ৭৬৫টি মান রয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্য মাত্র ৫৯৯টি।

সাম্প্রতিক সময়ে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ধাতব পদার্থ লিডের উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং পরে মান পরীক্ষায় এ দুটি প্যারামিটার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসটিআই। এ বিষয়ে মুয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, পাস্তুরিত তরল দুধে মান পরীক্ষায় এ দুটি বিষয় সংযুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ মান পরীক্ষায় নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দায় দিলে হবে না, পণ্যের মান বজায় রাখতে কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা আছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত মান পরীক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, খাদ্যপণ্যের মান শুধু বিএসটিআই নিয়ন্ত্রণ করে না, এর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক সংস্থা জড়িত রয়েছে। এসব সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে মান নিশ্চিত করা হবে।

বিএসটিআইর পরিচালক তাহের জামিল বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে অনেক পণ্যের নির্ধারিত মান নেই। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও তরল দুধে মান অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের সহনীয় প্যারামিটার ছিল না। বিএসটিআই এ মান সংশোধন করে নতুন প্যারামিটার সংযুক্ত করতে কারিগরি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পরে পাস্তুরিত তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও লিডের প্যারামিটার নির্ধারণ করে মান প্রণয়ন করা হবে।

মান দিবসে বিএসটিআইর কার্যক্রম :দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় মান সংস্থা বিএসটিআইর প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক অফিসে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড লাগানো হয়েছে। আজ বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিএসটিআইর প্রধান কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে