সিগন্যালের সঙ্গে ট্রেন লাইনের মিল ছিল না’

0
144
উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার দিন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও পুলিশ এবং রেলওয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন। কমিটিকে তদন্ত শেষে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কমিটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার বেশ কয়েকটি কারণ ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদ।

সিগন্যালের সঙ্গে ট্রেন লাইনের মিল না থাকায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদ।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করেছে। স্টক রেল ও টাং রেল দুটি লক থাকার কথা। কিন্তু সিগন্যালে গ্রিন সিগন্যাল দেখানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির মনে হয়েছে, সিগন্যালের সঙ্গে বাস্তবের মিল না থাকার কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এ কারণে ট্রেনটি মেইন লাইনে না গিয়ে লুপ লাইনে ঢুকে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সিগন্যালের সঙ্গে বাস্তবতার গরমিল রয়েছে এবং ওখানেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।

ফিরোজ মাহমুদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে দুটি সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে ট্রেনের সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোনো, ২০০৩ সালে করা। এটি আরও আপডেট করার প্রয়োজন রয়েছে। অপরটি হচ্ছে, তদারকি বাড়ানো। তাহলে হয়তো ট্রেন দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ জানান, ২৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দুর্ঘটনার আরও কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরে তাঁরাই প্রকাশ করবেন।

গত ১৪ নভেম্বর দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া স্টেশন এলাকায় রংপুর আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৭টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগিতে আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় ট্রেনের চালক, নিরাপত্তা কর্মীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেলযোগাযোগ বন্ধ থাকে। ছয় ঘণ্টা পর বিকল্প পথে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও ১৫ নভেম্বর রাত থেকে পুরোপুরি ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল পর্যায়ে দুটি এবং সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটিসহ মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে