সাহিত্যে কে নোবেল পেতে যাচ্ছেন?

0
267
সাহিত্যে কে নোবেল পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও নানান জল্পনাকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সুইডিশ অ্যাকাডেমির ভোটে নির্বাচিত হবেন বিজয়ী। এবার অবশ্য এ পুরস্কারে ভূষিত হবেন দুজন সাহিত্যিক। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে লিখেছেন মারুফ ইসলাম
অ্যানে কার্সন
খবরটা পুরোনো, নতুন করে জানানোর কিছু নেই, তবু নোবেল পুরস্কার যেহেতু ঠক ঠক করছে দুয়ারে, সেই সুবাদে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন দুজন সাহিত্যিক। কেন? সেই খবরও পুরোনো, তবু আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া যাক—২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে একটি সুইডিশ দৈনিক ১৮ জন নারীর বিবৃতি প্রকাশ করে, যাঁরা দাবি করেন যে সুইডিশ অ্যাকাডেমির সদস্য ক্যাটরিনা ফ্রস্টেনসনের স্বামী জাঁ-ক্লোদ আর্নো তাঁদের যৌন হয়রানি করেছেন। ফ্রস্টেনসন সুইডেনের সাংস্কৃতিক মহলে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি ও তাঁর ফরাসি স্বামী আর্নো যে সাংস্কৃতিক চক্রটি চালিয়ে থাকেন, তা অ্যাকাডেমির কাছ থেকে অর্থসাহায্য পায়।
জর্জ আর আর মার্টিন
আর্নোর বিরুদ্ধে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের নাম ফাঁস করারও অভিযোগ ওঠে তখন। যৌন কেলেঙ্কারির কথা জানাজানি হওয়ার পর ১৮ সদস্যবিশিষ্ট সুইডিশ অ্যাকাডেমির একাধিক সদস্য সরাসরি পদত্যাগ করেন, যাঁদের মধ্যে সারা ডানিয়ুসও আছেন, যিনি ১৭৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই অ্যাকাডেমির প্রথম নারী প্রধান। ফ্রস্টেনসন নিজেও পদত্যাগ করেন। সে সময় সুইডিশ অ্যাকাডেমিও স্বীকার করে যে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘনিষ্ঠতার মতো অগ্রহণযোগ্য আচরণ’ ঘটেছে, কিন্তু এই স্বীকৃতি সত্ত্বেও অ্যাকাডেমির সুনামের যে হানি ঘটেছে, তা রোধ করা যায়নি, যে কারণে অ্যাকাডেমি দৃশ্যত সে বছরের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

অ্যান্টিজ ক্রোগ

এরপর সুইডিশ অ্যাকাডেমি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, ২০১৮ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ সালে প্রদান করা হবে—সেই সঙ্গে ২০১৯ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীর নামও ঘোষণা করা হবে।

যাহোক, এসব পুরোনো খবর ছাপিয়ে এখন নতুন যে খবর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, সেটি হচ্ছে, কোন সে দুজন মহাভাগ্যবানের হাতে উঠতে যাচ্ছে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার? হাতে আছে মাত্র কয়েকটি দিন। ১০ অক্টোবরেই ভেদ হবে সেই রহস্যের। কিন্তু তত দিন অব্দি তর সইছে না সাহিত্যপ্রেমীদের, তাঁরা ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন জল্পনাকল্পনা।

সাহিত্যের বনেদি ম্যাগাজিন লিটারেচার হাব–এ প্রখ্যাত আইরিশ সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও প্রকাশক ড্যান সিহান এতদ্বিষয়ে এক দীর্ঘ প্রবন্ধ ফেঁদেছেন। সেখানে তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন, এবার অ্যানে কার্সনের হাতেই ওঠা উচিত নোবেল সাহিত্য পুরস্কার। অ্যানে কার্সন একজন কানাডিয়ান কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও অধ্যাপক। তাঁর কবিতা বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ, আর সে কারণেই তাঁকে পুরস্কারটা দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সিহান।

অপর দিকে অ্যানে কার্সন নিজেই অবশ্য সুপারিশ করেছেন অন্য একজনের নাম। তাঁর মতে, নোবেল পুরস্কারটা এবার মার্কিন ঔপন্যাসিক ও গল্পকার জর্জ আর আর মার্টিনের হাতে ওঠা উচিত। ব্রিটিশ অনলাইন ‘নিসার ওডস’–এ এক লেখায় কার্সন বলেছেন, জর্জ আর আর মার্টিন লেখালেখির মাধ্যমে ইতিমধ্যে জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। তাঁকে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার না দেওয়াটা অন্যায়।

ইসমাইল কাদারে

কানাডা, আমেরিকার পাশাপাশি আলোচনায় আছে আফ্রিকা। ঘুরেফিরে বারবার আলোচনায় উঠে আসছে আফ্রিকান কবি অ্যান্টিজ ক্রোগের নাম। নেদারল্যান্ডসের তিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক ওডিলে হেন্ডার্স ডিগিৎ ম্যাগাজিনে লিখেছেন, ক্রোগের কবিতা যেভাবে আফ্রিকাকে উপস্থাপন করে, তা আর কারও সাহিত্যে খুঁজে পাওয়া যায় না।

ক্রোগের কবিতা পাঠ মানে আফ্রিকায় না গিয়েও আফ্রিকাকে স্পষ্টভাবে অবলোকন করা। শুধু এ কারণেই যে ক্রোগকে পুরস্কারটা দেওয়া উচিত তা নয়, বরং নোবেল পুরস্কারের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র ১৪ জন নারী নোবেল পাওয়ায় যে অসাম্য বিরাজ করছে, তা কিছুটা দূর করার জন্য হলেও ক্রোগকে এবার পুরস্কার দেওয়া উচিত বলে মনে করেন নেদারল্যান্ডসের এই সাহিত্যসমালোচক ও অধ্যাপক।

হারুকি মুরাকামি

এসব নতুন নতুন নামের পাশাপাশি উচ্চারিত হচ্ছে সেই পুরোনো নামগুলোও—মিলান কুন্ডেরা, ইসমাইল কাদারে, হারুকি মুরাকামি, আদোনিস, ওলগা তুকারজাক কিংবা নগুগি ওয়া থিয়োংগা। কেউ বলছেন, এবার নিশ্চয় কুন্ডেরার অপেক্ষার নিশি আলোকিত ভোরের নাগাল পাবে। কেউ বলছেন, না, না, স্বপ্ন পূরণ হবে এবার ইসমাইল কাদারের। ‘আরে রাখেন আপনার কাদারে! এবার শেষ হাসি হাসবেন পোলিশ কবি ওলগা তুকারজাক’—এমন বলছেন কেউ কেউ। ওদিকে প্রতিবছরের মতো এ বছরেও যথারীতি আলোচনার শীর্ষে আছেন হারুকি মুরাকামি।

মুরাকামিকে কেন এ বছরেই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত, তা নিয়ে যুক্তির পর যুক্তি সাজিয়ে বৃহৎ কলেবরের এক নিবন্ধ ফেঁদেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার দং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও খ্যাতিমান সাহিত্য সমালোচক কাওয়ামুরা মিনাটো। জাপানিজ অনলাইন ‘নিপ্পন’–এ প্রকাশিত ওই নিবন্ধে তিনি বলেছেন, নোবেল কমিটির কাছে পশ্চিম যতটা আনুকূল্য পায়, ঠিক ততটা আনুকূল্য পায় না দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইরান ও ইরাক। বছরের পর বছর ধরে এতদঞ্চলের সাহিত্যিকেরা নোবেল কমিটির সুবিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এরপরই তিনি লিখেছেন, ‘আর কত অপেক্ষা করবেন মুরাকামি? জাপান তো বটেই, গোটা বিশ্বই চায় এবার মুরাকামির অপেক্ষার অবসান হোক।’

নগুগি ওয়া থিয়োংগা

সত্যিই কী হবে? ইতিহাস বলছে, প্রতিবছরই এমন জল্পনাকল্পনা, নিন্দামন্দ চলে, কিন্তু সেসবে মোটেও কর্ণপাত করে না নোবেল কমিটি। তাই প্রায় প্রতিবছরই দেখা যায়, সব পূর্বানুমানকে নস্যাৎ করে দিয়ে নতুন কেউ ছিনিয়ে নিয়েছেন সাহিত্যের নোবেল। এ বছর কোন দুজন হবেন সেই মহান বিজয়ী, জানতে অপেক্ষা করতে হবে অক্টোবরের ১০ তারিখ দুপুর অব্দি।

সূত্র: লিটারেচার হাব, ডিগিৎ ম্যাগাজিন, নিপ্পন ডটকম ও নোবেল প্রাইজ ডট অর্গ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে