সাদ, স্মৃতির অতল বের হয়ে আসা এক তারকা

0
190
বাংলাদেশ দলের ফরোয়ার্ড সাদ উদ্দিন। ফাইল ছবি
কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশের গোলটি করেছিলেন সাদউদ্দিন। সাদের সেই গোলের রোমাঞ্চ এখনো আছে কলকাতায়।

ফ্রি কিক থেকে উড়ে আসা বলটা নাবীব নেওয়াজ জীবন বা রিয়াদুল হাসানকেও খুঁজে নিতে পারত। কিন্তু জায়গামতো ছিলেন সাদ উদ্দিন। জামালের পা থেকে হাওয়ায় ভেসে আসা বাঁক খাওয়া বলটা ভারত গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং ফ্লাইট মিস করলেও মাটিতে পড়ার সুযোগই দিলেন না সাদ। জীবনের সেরা হেডটি নিলেন। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম গোল! যুব ভারতীয় স্টেডিয়ামে থেমে গেল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শকের ‘লেটস গো ইন্ডিয়া’ গর্জন। আর বাংলাদেশের আকাশে ছড়িয়ে গেল উৎসবের আবির।

ওই গোলটি না হলে বাংলাদেশের ফুটবল থেমে যেত না। কিন্তু বলটি জালে জড়ানোয় দেশের ফুটবলে চেহারা এখন জ্বলজ্বল করছে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের ঝুলিতে জমা পড়েছে ১ পয়েন্ট। আর সবকিছু ছাপিয়ে ভারতের বিপক্ষে এই ড্রটা জানান দিয়েছে জেমি ডের হাত ধরে এক নব্য বাংলাদেশের শক্তি। সবকিছু মিলিয়ে সাদের গোলটির মাহাত্ম্য অনেক বড়। ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা পরেও কলকাতায় পাওয়া গেছে সাদের সেই গোলের স্বাদ। ইডেন গার্ডেনের বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (সিএসই) সৌরভ গাঙ্গুলীর অফিস থেকে শুরু করে ভারতের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর শ্বশুর সুব্রত ভট্টাচার্যের মুখেও শোনা গিয়েছে সাদের গোলের প্রশংসা।

সাদের নাম উঠলেই ফিরে তাকাতে হয় ২০১৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। সেবার বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে সাদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সের ওপর ভর করেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ফাইনাল ছাড়া গ্রুপ পর্বেও বাংলাদেশের কিশোরদের কাছে নাকাল হয়েছিল ভারত। পাঁচ বছর আগের সেই টুর্নামেন্টেই সিলেটের লোকাল বয়ের গায়ে লেগে গিয়েছিল কিশোর তারকার তকমা। এর পরে বেশ কয়েকবার-ই এসেছেন দৃশ্যপটে। তবে সিলেটের সঙ্গে শুধু এবারের কলকাতার দৃশ্যটাকেই মেলানো যায়, ‘জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই আমার প্রথম গোল। বলতে পারেন স্বপ্নের মতো এক গোল। ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাঠে গোল করার আনন্দ অন্য রকম। অনূর্ধ্ব-১৬ সাফে যে রকম অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা পেয়েছিলাম। ভারতের বিপক্ষে গোল করার পর সেরকম শুভেচ্ছায় পাচ্ছি। তবে এই গোলের আনন্দ অনেক বেশি।’

সাদ প্রথাগত ফরোয়ার্ড হলেও আবাহনী লিমিটেডের জার্সিতে রাইট ব্যাকে হিসেবে খেলে থাকেন। কিন্তু জাতীয় দলে গেলেই তাঁকে ফরোয়ার্ড হিসেবে তৈরি করেন কোচ। তাঁকে পাক্কা গোল শিকারি বলা না গেলেও গোল যে করতে পারে, তা প্রমাণিত। কলকাতা ম্যাচের আগেও তা দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকবার। ২০১৭ সালে এএফসি কাপে ভারতের বেঙ্গালুরু এফসির বিপক্ষেও সাদ দুর্দান্ত একটি গোল করেছিলেন ডাইভিং ভলিতে। জেমি ডের কাছে তা অজানা ছিল না। শুরু থেকেই ফরোয়ার্ড হিসেবে তাই পছন্দের একজন সাদ।

গত বছর এশিয়ান গেমস দিয়ে জেমির অধীনে ফরোয়ার্ড সাদের শুরু। ইন্দোনেশিয়ার এশিয়াডে খেলেছিলেন দুর্দান্ত। এর পর ঘরের মাঠের সাফ ফুটবলেও ছিলেন অটোমেটিক চয়েজ। কিন্তু এর পরেই চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে পড়তে হয় তাঁকে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইপর্ব দিয়ে ফেরা। আর তাতেই নায়ক। অথচ চোট কাটিয়ে ফিরেই তাঁর একাদশে থাকা নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। গোল করে অবশেষে সমালোচনার জবাব দিলেন সাদ, ‘মাঝে অনেক দিন আমি চোটে ছিলাম। অনেক ম্যাচ খেলতে পারিনি। চোট থেকে ফেরার পর আমি আসলে সব ম্যাচেই খেলার সুযোগ পেয়েছি। ভুটানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলেছি। কাতারের বিপক্ষেও খেলেছি। এই নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টায় ছিলাম, কিন্তু গোল পাচ্ছিলাম না। অবশেষে পেলাম।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে