সাক্ষীসাবুদ নেই, তবু কারাগারে ১৮ বছর

0
336
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: রয়টার্স

তিনি সাজা পেয়েছিলেন মৃত্যুদণ্ডের। আপিলের পর কারাগারে কেটে গেছে জীবনের ১৮টি বছর। এত দিন পর জানা গেল, যে মামলায় তাঁর এই সাজা, তাতে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাব আছে। তাই এখন তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের লাহোরে এ ঘটনা ঘটেছে। ওয়াজিহ–উল-হাসান নামের এক ব্যক্তি ‘ব্লাসফেমি’ (ধর্ম অবমাননার) মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে হাসানকে খালাস দিয়েছেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সাজ্জাদ আলী শাহের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ বুধবার হাসানকে নির্দোষ বলে রায় দেন।

হাসানের এই মামলার শুরু ১৯৯৯ সালে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন বলছে, এক আইনজীবী ওই বছর হাসানের বিরুদ্ধে ব্লাসফেমি আইনে মামলা করেন। মামলায় দাবি করা হয়েছিল, হাসান ওই আইনজীবীর কাছে ধর্মকে অবমাননা করে একটি চিঠি লিখেছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হন হাসান। ২০০১ সালে একজন হস্তলিপিবিশারদ বলেছিলেন, আসামির হাতের লেখার সঙ্গে ওই চিঠির লেখার মিল আছে। এরই ভিত্তিতে লাহোরের আদালত হাসানের মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।

পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, ব্লাসফেমি অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত এখন বলছেন, এই মামলার সরাসরি কোনো সাক্ষী পাওয়া যায়নি। চিঠিটি হাসান লিখেছেন কি না, সেটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণে আইনজীবীরা ব্যর্থ হয়েছেন। এ জন্য এই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গত বছর আসিয়া বিবি নামের এক নারীকেও ব্লাসফেমি আইনে করা মামলা থেকে খালাস দেন। আসিয়া বিবির মামলা সে সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছিল। আসিয়া বিবির ওই মামলার রায়ের সময় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, ব্লাসফেমি আইনে অপরাধ হয়েছে কি না, সেটি কোনো ব্যক্তি কিংবা জনতার সমাবেশ নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখে না। এমন অপরাধের বিষয়টি আদালত যথাযথ বিচার–প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে