সাইবার হামলা করে ২০০ কোটি ডলার হাতিয়েছে উ. কোরিয়া

0
461
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন।

নিজস্ব অস্ত্র কর্মসূচির পেছনে অর্থ ঢালতে সাইবার আক্রমণ করে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। জাতিসংঘের ফাঁস হওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গোপন ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ং বিভিন্ন ব্যাংক ও ক্রিপটোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলো লক্ষ্য করে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।

কয়েকটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, ৩৫টি সাইবার আক্রমণের ঘটনা তদন্ত করছে জাতিসংঘ।

গতকাল মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে চতুর্থবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা ঘটাল দেশটি।

আজ বুধবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করতেই তাঁরা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছেন। এ যৌথ মহড়াকে শান্তিচুক্তির লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে পিয়ংইয়ং।

জাতিসংঘের ফাঁস হওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্তর কোরিয়ার নিষেধাজ্ঞা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তহবিল চুরি করতে জটিল আক্রমণ বাড়িয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে সাইবার মাইনিং কার্যক্রমও তদন্ত করে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিপটোকারেন্সি বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের ফলে তাদের যে আয় হচ্ছে, তা ধরা খুব কঠিন। প্রচলিত ব্যাংকিং খাতের মতো এখানে কোনো নীতিমালা নেই এবং সরকারের নজরদারির বাইরে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরযোগ্য ব্যাপক ধ্বংসযোগ্য অস্ত্র রেখে জাতিসংঘের অবরোধসংক্রান্ত নিয়ম ভেঙেছে উত্তর কোরিয়া।

২০০৬ সাল থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সেখানে কয়লা, লোহা, পোশাক ও সামুদ্রিক খাদ্য সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

গত বছরে সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকের পর পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসার কথা বলেছিলেন কিম জং–উন। এ ছাড়া আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না করার বিষয়েও সম্মত হন তিনি। পরে হ্যানয়ে আরেক সম্মেলনে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই সম্পন্ন হয়।

এরপর থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের কথাবার্তা আটকে আছে। তবে দুপক্ষই কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের পক্ষে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সাইবার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সব ভুক্তভোগী রাষ্ট্রকে বলা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে