সহযোগিতা পাওয়ার অপেক্ষায় আলাউদ্দীন আলী

0
322
আলাউদ্দীন আলী

দেশের বরেণ্য গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পী আলাউদ্দীন আলীর শরীরে আবার ক্যানসার ধরা পড়েছে। ৫ অক্টোবর তাঁকে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হবে। এরই মধ্যে থাইল্যান্ডের স্যামিটিভেজ সুকুমভিত হাসপাতাল ও ব্যাংকক হাসপাতালে তাঁর সর্বশেষ পরীক্ষার সব রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এসব রিপোর্ট দেখে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আলাউদ্দীন আলীকে ৭ অক্টোবরের মধ্যে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আলাউদ্দীন আলীর স্ত্রী ফারজানা মিমি আজ মঙ্গলবার দুপুরে জানিয়েছেন, ৩ অক্টোবর ভিসা পাওয়া যাবে। সেভাবেই থাইল্যান্ডের যাওয়ার সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বর্তমান আর্থিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি আলাউদ্দীন আলীর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থিক অনুদান হিসেবে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। এ ছাড়া চ্যানেল আই দিয়েছে ১ লাখ টাকা, শিল্পীর পাশে ফাউন্ডেশন দিয়েছে ৩ লাখ টাকা আর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় দিয়েছে ৩ লাখ টাকা। গত ২২ জানুয়ারি থেকে ৭৭ দিন রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাউদ্দীন আলী ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘদিন তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) রাখা হয়। হাসপাতালের বিল বাবদ খরচ হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। এরপর তিনি অনেক দিন সিআরপিতে ছিলেন। সেখানেও অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন হাতে আছে ৮ লাখ টাকা।

ফারজানা মিমি বললেন, ‘এখন হাতে যে টাকা আছে, তা দিয়ে আলাউদ্দীন আলীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মোটেও সম্ভব না। আমরা বিভিন্ন শিল্পী ও প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করেছি। এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগিতা বা আশ্বাস পাইনি। আলাউদ্দিন আলী নিজেও অপেক্ষা করে আছেন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবার আর্থিক সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছি।’

আলাউদ্দিন আলীর তৃতীয় স্ত্রী ফারজানা মিমি। তাঁর একমাত্র মেয়ে রাজকন্যা স্কুলে পড়ছে। অন্য দুই সংসারে আছেন আলাউদ্দিন আলীর তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এই ছেলেমেয়েদের কাছ থেকেও আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার ব্যাপারে তাঁরা খুবই আশাবাদী।

আলাউদ্দীন আলী এখন রামপুরা বনশ্রীর এ ব্লকের অ্যাপার্টমেন্টের যে ফ্ল্যাটে আছেন, সেটি ব্যাংকের কাছে বন্ধক দেওয়া। এই ফ্ল্যাট কেনার জন্য যে ঋণ নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে এখনো ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এই ঋণ কোথা থেকে কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা জানে না তাঁর পরিবার।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর ফুসফুসে নতুন করে টিউমারের অস্তিত্ব দেখা গেছে। পাশাপাশি তাঁর যকৃতেও টিউমার পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।

গত ২২ জানুয়ারি রাতে বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর বাড্ডার বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আলাউদ্দীন আলী। তখন তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। পাশাপাশি তাঁর উচ্চমাত্রায় জ্বর ছিল। কাশ হচ্ছিল। সবকিছু মিলিয়ে অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের আইসিইউতে তাঁকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৫ জানুয়ারি সকালে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। ৭৭ দিন চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়। গত ৮ এপ্রিল তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। এরপর তাঁকে ফিজিওথেরাপি নেওয়ার জন্য মিরপুরে সিআরপিতে ভর্তি করা হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩ জুলাই আলাউদ্দীন আলীকে ব্যাংকক নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁর ফুসফুসে একটি টিউমার রয়েছে। তখন আলাউদ্দীন আলী জানিয়েছিলেন, টিউমারটি হৃদ্‌যন্ত্রের কাছাকাছি হওয়ায় এর অস্ত্রোপচার বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বিকল্প হিসেবে রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা হয়। এরপর এখন পর্যন্ত তাঁর অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ক্যানসারের চিকিৎসাও চলছিল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে