সরিষাবাড়ীতে বিজয় দিবস ঘিরে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০

0
117
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা সার কারখানা এলাকায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকে ঘিরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পাঁচটি মোটরসাইকেল ও পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

দলীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিজয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে যমুনা সার কারখানা এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গতকাল রাত আটটা থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। জগন্নাথগঞ্জ ঘাটের হেলাল উদ্দিন সেখানে যাওয়ার পথে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ মুরাদ হাসানের সমর্থক সাখাওয়াত আলম তাঁকে মারধর করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রফিকুল ও মুরাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রাত ১০টা পর্যন্ত কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হন। খবর পেয়ে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় পরিদর্শক (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম তালুকদার, পুলিশ সদস্য আবদুস সালাম ও সাইফুল ইসলাম আহত হন।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ (২৬) অন্তত ২২ জনকে প্রথমে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে মামুনসহ ছয়জনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আল মামুনকে রাতেই ঢাকার চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের সমর্থক সাখাওয়াত আলম তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর গুলি ছুড়েছে।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে সাখাওয়াত আলম দাবি করেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় আওনাতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারাকান্দিতে পৌঁছান তাঁরা। সেখানে ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে যুবলীগের তৈরি মঞ্চে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালান।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মো. ফজলুল করীম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম তালুকদারসহ তিন পুলিশ আহত হয়েছেন। কেউ অভিযোগ করলে মামলা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, ‘এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা আমি কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমি বিশৃঙ্খলা চাই না।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে