‘সম্পত্তি হারানোর ভয়ে’ মায়ের মাথায় গুলি চালালেন ছেলে

0
58
মা, ছোট ভাই ও বোনের সঙ্গে মাইনুদ্দিন মাইনু (বাঁ দিক থেকে প্রথম)।

পারিবারিক কলহের জেরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ছেলের গুলিতে জেসমিন আকতার (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। তিনি পটিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এবং দক্ষিণ জেলা জাপার আহ্বায়ক প্রয়াত শামসুল আলমের স্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে পটিয়া পৌর সদরের ৫ নং ওয়ার্ডের সবজারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি খুন হন। ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত ছেলে মাইনুদ্দিন মাইনু (৩০)।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে তাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০টি কার্তুজ ও একটি এয়ারগান জব্দ করে। তবে অভিযুক্ত মাইনুদ্দিন পালিয়ে যায়। তাকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।

মায়ের মাথায় গুলি করার পরপরই পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত ছেলে মাইনুদ্দিন মাইনু। 

স্থানীয়রা জানায়, বাবা শামসুল আলমের রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও টাকাপয়সা নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া লাগে মাইনুদ্দিনের। একপর্যায়ে মাকে মাথায় গুলি করে তিনি। পরে প্রতিবেশীরা এসে জেসমিন আকতারকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, নিহত জেসমিন কিছু দিন পর মেয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কথা ছিল। মাইনুদ্দিনের সন্দেহ, সব সম্পত্তি বিক্রি করে মা বিদেশে পাড়ি দিতে চাচ্ছেন। তার বাবা শামসুল আলম ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত পটিয়া পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালীন প্রশাসক এবং ১৯৯৩ ও ১৯৯৭ পরপর টানা দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন।

জুলাই মাসে শামসুল আলম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার এক মেয়ে ও দুই ছেলে। অভিযুক্ত মাইনুদ্দিন পটিয়া কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান এবং তার নামে কয়েকটি মামলা আছে বলে জানা গেছে।

পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার জানান, ‘প্রাথমিক ধারণা পারিবারিক কলহের জেরে মাকে গুলি করে হত্যা করে ছেলে মাইনুদ্দিন। খবর পেয়ে তাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০টি কার্তুজ ও একটি এয়ারগান জব্দ করে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.