সমুদ্রের বাওস এখন পদ্মায়

0
905
পদ্মায় জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়েছে। স্থানীয় ভাষায় একে বাঙ্গোস মাছ বলে। পরে ৫০০ টাকা কেজি দরে স্থানীয় বাজারে মাছটি বিক্রি করা হয়। গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী, ২১ আগস্ট।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এক মাছ ব্যবসায়ী হঠাৎ স্থানীয়ভাবে অচেনা দুটি মাছ বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। মাছ দুটি দেখতে এ সময় ভিড় করেন স্থানীয়রা। ওই ব্যবসায়ী জানালেন, এই মাছের নাম বাওস। এটা সমুদ্রে থাকে।

বাওস মাছ নিয়ে আসা ওই ব্যবসায়ীর নাম হারুন শেখ। তিনি বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা উজানচর ইউনিয়নের চর মজলিশপুর ও সিলিমপুর এলাকার জেলেদের জালে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মাছ দুটি আটকা পড়ে। পরে তিনি ৫০০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলভেদে মাছটির বিভিন্ন নাম থাকলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘বাঙ্গোস’ নামে পরিচিত।

হারুন শেখ বলেন, বাঙ্গোস সমুদ্রের মাছ। দেখতে বাইম মাছের মতো লম্বা। শরীরজুড়ে তেলতেলে। মাছ দুটির মধ্যে বড়টা প্রায় সাড়ে চার ফুট লম্বা মাছটির ও ওজন প্রায় ৬ কেজি। আরেকটিও প্রায় তিন ফুট লম্বা ও ওজন প্রায় আড়াই কেজি। তিনি মাছ দুটির দাম হাঁকছিলেন ১ হাজার টাকা কেজি হিসাবে। তবে আশা করছেন অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারবেন। রাতে যদি বিক্রি করতে না পারলে অন্যত্র যাবেন।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শেখর আহম্মেদ বলেন, ‘এ ধরনের মাছ এই অঞ্চলে প্রথম দেখলাম। এর আগে কখনোই দেখিনি। বাইন মাছের মতো আকৃতির তবে আকারে বেশ বড়।’

কোরবান সরদার নামের এক পথচারী মাছ দুটি দেখে বললেন, ‘এ মাছ বাইন মাছের মতো রান্না করে খেতে হয়। অনেক সুস্বাদু ও দামি। বহুদিন পর এ ধরনের মাছ দেখতে পেলাম।’

গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ বলেন, আঞ্চলিক ভাষায় এটিকে বাঙ্গোশ বললেও মূলত এই মাছের নাম বাওস। এটি সামুদ্রিক মাছ। সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে এসব মাছ মাঝেমধ্যে ধরা পড়ে। পদ্মায় এই মাছ পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ধারণা করা যাচ্ছে সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে হয়তো ভোলা অঞ্চল থেকে এই মাছ চলে আসতে পারে। বাওস মাছ প্রায় ২০ কেজি পর্যন্ত ওজন হতে পারে বলে তাঁর জানা আছে। এসব মাছ অনেক সুস্বাদু ও দামি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.