সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ ফারাজের পরিবার

0
203
ফারাজ আইয়াজ হোসেন

গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় গ্রেপ্তার নব্য জেএমবির সাত সদস্যের মৃত্যুদণ্ড এবং এক আসামির খালাস দেন ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুজিবর রহমান বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিক নিহত হন। এদের মধ্য ছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ট্রান্সকম গ্রুপের কর্ণধার লতিফুর রহমানের নাতি ফারাজ আইয়াজ হোসেন। শিল্পপতি সিমিন হোসেন ও ওয়াকার হোসেনের ছোট ছেলে ফারাজ। দুর্দান্ত মেধাবী ফারাজ যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতেন।

রায়ের পর পরিবারের পক্ষ থেকে ফারাজ হোসেনের ভাই যারেফ আয়াত হোসেন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার কথা আজ আমরা স্মরণ করছি। সেদিন রাতে আমরা আমাদের প্রিয় ফারাজ আইয়াজ হোসেনকে হারিয়েছি। দুই বন্ধুকে বিপদে ফেলে না গিয়ে ফারাজ যে ব্যতিক্রমী সাহসিকতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও অসামান্য মূল্যবোধের নজির রেখে গেছে সে জন্য আমরা ভীষণভাবে গর্বিত। একজন বাংলাদেশি মুসলিম হওয়ার কারণে জঙ্গিরা তাঁকে ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে বললেও ফারাজ তাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং বন্ধুদের রক্ষায় নিজের জীবনই উৎসর্গ করেছে। ওই রাতে ফারাজ যে সত্যিকারের উদাহরণ তৈরি করেছে, বাংলাদেশ সেই মূল্যবোধই ধারণ করে।’

যারেফ হোসেন বলেন, ১ জুলাই হিতাহিতজ্ঞান শূন্য ওই হামলায় ইতালি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও বাংলাদেশের নিরীহ নাগরিকদের প্রাণহানিতে আমরা গভীর দুঃখপ্রকাশ করছি। সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবিলায় জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি গ্রহণ করায় আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। এটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থান নিতে বাংলাদেশের জনগণকে প্রচণ্ডভাবে চালিত করেছে ও ঐক্যবদ্ধ করেছে। আমাদের বিশ্বাস, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও এর মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াই বিরামহীনভাবে অব্যাহত থাকবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে