সংসদীয় কমিটিতে দুই ঘণ্টায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন

নির্বাচন কমিশন গঠন

0
70
জাতীয় সংসদ ভবন

আলোচিত নির্বাচন কমিশন গঠন আইনের প্রস্তাবটি সংসদীয় কমিটিতেও গতি পেল। বিলটি পরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। দুই ঘণ্টার বৈঠকে তা চূড়ান্ত করে এক দিন পরই তার প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে। খসড়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার দুটি ধারায় কিছু সংশোধনের সুপারিশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ নিয়ে আলোচনা শেষে সংসদে দেওয়ার জন্য প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। আগামীকাল বুধবার সংসদ অধিবেশনে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে বিলটিতে কিছু সংযোজনীর প্রস্তাব করেছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। কিন্তু তার প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়নি।

গতকাল বৈঠকে শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করেন, এই আইন করার ক্ষেত্রে সরকার কোনো তড়িঘড়ি করেনি বা গোপনীয়তা ছিল না। আর বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, প্রস্তাবিত আইনটিতে দায়মুক্তির কথা বলা হয়েছে। সংসদে এর সংশোধন প্রস্তাব আনবেন তারা।

গত রোববার বহুল আলোচিত ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বিলটি উত্থাপনে আপত্তি তুললে কণ্ঠভোটে তা নাকচ হয়। পরে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। পরদিন সোমবারই সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠকে বসে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে অন্যদের মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অংশ নেন।

যে দুই পরিবর্তন :সংসদে উত্থাপিত বিলে সিইসি ও কমিশনারদের যোগ্যতা সংক্রান্ত ধারায় পরিবর্তন করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। ৫ (গ) ধারায় বলা আছে, সিইসি ও কমিশনার হতে গেলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদে তার অনূ্যন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই ধারায় সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদের পাশাপাশি ‘স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য পেশা’ ?যুক্ত হবে।

এ ছাড়া অযোগ্যতার ক্ষেত্রে ৬ (ঘ) ধারায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সেখানে বলা আছে, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অনূ্যন দুই বছরের কারাদে দি ত হলে সিইসি ও কমিশনার হওয়া যাবে না। এখানে শুধু কারাদে র সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নৈতিক স্খলন ফৌজদারি অপরাধে যে কোনো মেয়াদের সাজা হলেই সিইসি বা কমিশনার হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগত্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার সাংবাদিকদের এসব পরিবর্তনের বিষয়ে জানান। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটি বিস্তারিত আলোচনা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। আমরা যোগ্যতা ও অযোগত্যার জায়গায় কিছু পরিবর্তন এনেছি। সেভাবেই সংসদে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

সংসদে উত্থাপিত বিলটিকে আগের সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশনকে ‘বৈধতা’ দেওয়া হচ্ছে বলে যে আলোচনা রয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদুজ্জামান বলেন, ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) বলছে অনেকে। কিন্তু এটি ইনডেমনিটি নয়। বিলের ৯ নম্বর দফায় আগের দুটি সার্চ কমিটির বৈধতা দেওয়া হয়েছে। সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতি ঐকমত্যের ভিত্তিতে করেছিল। সেটাকে সমর্থন দেওয়া হলো। কোনো দায়মুক্তি নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের দুটি কমিশনের কার্যক্রমকে হেফাজত দেওয়ার বিষয় এখানে আসেনি। শুধু সার্চ কমিটির বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সংসদে উত্থাপিত বিলে বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতোপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এবং উক্ত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলে গণ্য হবে এবং উক্ত বিষয়ে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।’

আইনমন্ত্রী যা বললেন :বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যখনই আইনটি কেবিনেটে পাস হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আমি তো বুঝলাম না এখানে গোপনীয়তা কী! আর আমরা এত বোকা না, এই আইনটা গোপন করে আমার কী লাভ?’

প্রস্তাবিত আইনে আগের দুটি ইসিকে দায়মুক্তির বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আইনে দুটি জিনিস আছে। একটা হচ্ছে ইনডেমনিটি আর একটা হচ্ছে লিগ্যাল কাভারেজ। দুটি কিন্তু এক জিনিস না। ইনডেমনিটি হচ্ছে মাফ করে দেওয়া, তাদের আইনের আওতা থেকে বের করে দেওয়া। লিগ্যাল কাভারেজ হচ্ছে আইনের ভেতরে আনা। দফা-৯ পরিস্কারভাবে পড়ে দেখেন কারও কৃতকর্মকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয় নাই।’

রুমিন যা বলেন : বৈঠক শেষে বিএনপির এমপি রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, প্রস্তাবিত আইনটিতে দায়মুক্তির কথা বলা হয়েছে। সংসদে এর সংশোধন প্রস্তাব আনবেন তারা।

রুমিন বলেন, বৈঠকে তিনি বলেছেন, আইনটির খসড়া নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা করা হয়নি। ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠনের জন্য যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলেন তার সঙ্গে এই খসড়ার কোনো পার্থক্য নেই। তিনি প্রস্তাব করেছেন, সার্চ কমিটি কাদের নাম প্রস্তাব করল সেটা প্রকাশ করতে হবে, তার ওপর আলোচনা হবে তারা আসলেই যোগ্য কিনা, সে ব্যাপারে আইনে কিছু বলা হয়নি। এ ছাড়া আইনের ৯ ধারায় ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। এটা আইনের মৌলিক ধারণার পরিপন্থি। ভূতপূর্ব কার্যকারিতা দেওয়া কখনও আইনের চোখে ভালোভাবে দেখা হয় না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে