শোকাহত, হতভম্ব থাইল্যান্ড

ডে কেয়ার সেন্টারে বর্বরতা

0
173
বন্দুক হামলার ঘটনায় থাইল্যান্ডজুড়ে চলছে শোক

সুপাপোর্ন প্রামংমুক। ২৫ বছর বয়সী এই শিক্ষিকার সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ছিল আগামী ২৩-২৪ অক্টোবর। যিনি উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের নির্মমতার শিকার কিন্ডারগার্টেনে পড়াতেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার তিনিও শিশুদের সঙ্গে তার অনাগত সন্তানকে নিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে। সুপাপোর্নের বাবা-মাও আশা করেছিলেন, তাঁদের নতুন নাতি একদিন ওই নার্সারিতেই পড়বে। কিন্তু তাঁদের সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো নিমেষে।

ওই হামলায় ২২ শিশুসহ ৩৭ জন নিহত হয়। যে শিশুরা মারা গেছে, তাদের প্রত্যেকেরই বয়স ২ বছরের কাছাকাছি। ওই হামলাকারী প্রথমমে ছুরি, পরে বন্দুক দিয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনায় হতভম্ব গোটা থাইল্যান্ড। হামলার পরদিন গতকাল সেই ডে কেয়ার সেন্টারেই নিহত শিশুদের খেলনা নিয়ে হাজির হন শোকাহত, হতভম্ব স্বজনরা। তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না, কেন এমন ঘটনা ঘটল।

ন্যক্কারজনক হামলায় শোক জানাতে দেশটিতে গতকাল শুক্রবার জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এ দিন প্রধানমন্ত্রী প্রয়ুথ চান ওচা এবং রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ওই ডে কেয়ার সেন্টারটি পরিদর্শন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নং বুয়া লাম্বু প্রদেশের না ক্লাং জেলায় বর্বর ওই হামলা চালায় পানিয়া খামরব (৩৪) নামের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, যাকে মাদক সেবনের দায়ে গত জুনে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরই মধ্যে নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর শুরু করেছে দেশটির সরকার। অনেকেই ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে লাশ দাফন করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৩৭ জন নিহত হয়েছে।

হামলা থেকে বেঁচে যান শিক্ষক নান্তিচা পাঁচুম। তিনি বলেন, তিনি বন্দুকধারীকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেখেছেন। স্কুলে ঢোকার আগেই সে কয়েকজনকে আক্রমণ করে। পাঁচুম জানান, তিনি তার সহকর্মীকে দরজা বন্ধ করতে বলেছিলেন। কিন্তু বন্দুকধারী কাচ ভেঙে ফেলতে শুরু করে। তিনি ভয় পেয়েছিলেন, কারণ তার কাছে বন্দুক ছিল। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমি ভাবিনি যে, সে বাচ্চাদের সঙ্গে এমন আচরণ করবে।’ সূত্র :আলজাজিরা ও রয়টার্স।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.