শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অগ্নিবীণার প্রত্যাবর্তন: তথ্যমন্ত্রী

0
103
নিজ দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রত্যাবর্তন নয়, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অগ্নিবীণার প্রত্যাবর্তন।

রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪০তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

এসময় ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে পৃথিবীর সবচাইতে সৎ ও কর্মঠ রাষ্ট্রনায়কদের অন্যতম হিসেবে বর্ণনা করে ড. হাছান বলেন, মাদার অব হিউম্যানরিটি, চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ হিসেবে অভিষিক্ত শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক নন, শুধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নন, তিনি আজ বিশ্বের সামনে একটি অনুকরণীয় নেতৃত্বের উদাহরণ।

ড. হাছান বলেন, ‘১৯৮১ সালের এই দিন ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশে পদার্পণ করেছিলেন। তখন জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রকে বাক্সবন্দি করে মার্শাল ডেমোক্রেসি চালু করেছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নির্বাসিত করে দেশে পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে এনেছিল। তাই ১৭ মে ১৯৮১ সালে শুধুমাত্র ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল না, এদিন ছিল গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অগ্নিবীণার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর বঙ্গবন্ধুকন্যা যখন বাংলাদেশে ফিরে আসার প্রত্যয় ঘোষণা করেন, তখন জিয়াউর রহমান নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পরবর্তীতে তার অর্থাৎ জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা মনোভাব, তার দেশে আসার প্রত্যয় ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক চাপের কারণে জিয়াউর রহমান তাকে দেশে আসতে দিতে বাধ্য হয়েছিল।’

তিনি বলেন, এমনকি দেশে আসার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রক্তে ভেজা ৩২ নম্বর বাড়িতে গিয়ে একটি মিলাদ পড়াতে চেয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান সে অনুমতিও দেয়নি। বাধ্য হয়ে রাস্তায় শামিয়ানা টাঙিয়ে মিলাদের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। এমনই জিঘাংসাপরায়ণ ছিল জিয়াউর রহমান।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ পরিচালনার জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর বাংলাদেশের মানুষকে, এই জাতিকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য, বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করার জন্য প্রাণান্তর চেষ্টা করেছেন, দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। তার নেতৃত্বে প্রথম ’৫০ এর দশক থেকে বহুবছরের খাদ্যঘাটতির বাংলাদেশ আজ মানুষ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কোনো কোনো বছর খাদ্যে উদ্বৃত্ত। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্পন্নোত দেশের তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে, মহান ভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজকে বিশ্বের সামনে উন্নয়নের রোলমডেল।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কোটালিপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে পাখি শিকার করার মতো মানুষ শিকার করে, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুড়েও তাকে হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বারবার মৃত্যুর উপত্যকা থেকে ফিরে এসেও মৃতুঞ্জয়ী শেখ হাসিনা বিচলিত হন নাই, দ্বিধান্বিত হন নাই, বরং আরো দীপ্তপদভারে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কাফেলাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে