শুরুতেই হোঁচট লিভারপুলের

0
314
নাপোলির কাছে হেরে গেছে লিভারপুল। ছবি : এএফপি
এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচেই হেরেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির মাঠে গিয়ে ২-০ গোলে হেরেছে তারা। নাপোলির হয়ে গোল করেছেন বেলজিয়ান তারকা ড্রিয়েস মার্তেন্স ও স্প্যানিশ তারকা ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে।

গতবারও এই কাহিনিই দেখেছিল ফুটবল বিশ্ব। এবারও চিত্রনাট্য এক, শুধু পর্ব ভিন্ন। বলছিলাম লিভারপুল-নাপোলির কথা। গতবার গ্রুপপর্বে এভাবেই নাপোলির মাঠে গিয়ে হেরে এসেছিল লিভারপুল। গোটা ম্যাচে যেন লিভারপুলের প্রাণবন্ত আক্রমণভাগের শ্বাসরোধ করে রেখেছিল নাপোলির রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ড। এবারও একই পরিকল্পনায় লিভারপুলকে আটকেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। আর তাতেই ২-০ গোলে হেরেছে অল রেড রা। ইতালিয়ান ক্লাবটার পক্ষে গোল করেছেন বেলজিয়ান স্ট্রাইকার ড্রিয়েস মার্তেন্স ও স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে।

৪-৪-২ ছকে শুরু করেছিল নাপোলি। আর লিভারপুল সেই চিরচেনা ৪-৩-৩ ছকে। প্রথমার্ধে দুই দলই গোল করার সুযোগ পেয়েছে। ঘরের মাঠে খেলা বলে নাপোলিই একটু বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। তবে মূল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের জায়গায় মাঠে নামা স্প্যানিশ তারকা আদ্রিয়ানের দৃঢ়তায় কোনো গোল খায়নি লিভারপুল। তা ছাড়া অফসাইডের কারণেও নাপোলির একটি গোল বাতিল হয়ে যায়। ওদিকে লিভারপুলও কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট করে। কখনো ডি-বক্সের মধ্যে মোহাম্মদ সালাহর অতিরিক্ত কারিকুরি করতে চাওয়ার প্রবণতা, বা কখনো সাদিও মানের বল নিয়ন্ত্রণ না করতে পারার খেসারত দিয়েছে লিভারপুল। বাহবা দিতে হবে নাপোলির তরুণ ইতালিয়ান গোলরক্ষক অ্যালেক্স মেরেটকেও। বেশ কিছু আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি।

তবে সব বাদ দিয়ে ম্যাচটা একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল দুই দলের দুই কুশলী ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক ও কালিদু কুলিবালির লড়াই। এ দিকে মার্তেন্স-লোজানো বা ইনসিনিয়ার প্রায় সব আক্রমণ আটকে দিচ্ছিলেন ফন ডাইক, ওদিকে সালাহ-মানে-ফিরমিনোরা বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন কুলিবালিকে পার হতে। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই দুই ডিফেন্ডারের লড়াইয়ে শেষমেশ কার্যত জয় হয়েছে কুলিবালিরই। অন্তত স্কোরলাইন সেটাই বলছে।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে লিভারপুলের লেফটব্যাক অ্যান্ডি রবার্টসনের এক চ্যালেঞ্জে ডিবক্সের মধ্যে পড়ে যান নাপোলির স্প্যানিশ উইঙ্গার হোসে কায়েহন। ফলাফল, পেনাল্টি। সে পেনাল্টিতে দলকে এগিয়ে দেন বেলজিয়ান তারকা ড্রিয়েস মার্তেন্স। তবে পেনাল্টিটা কী আদৌ পেনাল্টি ছিল কি না, বা রবার্টসনের ট্যাকলটা কি পেনাল্টি দেওয়ার যোগ্য ছিল কি না, এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে বিস্তর কাটাছেঁড়া। কেননা, কার্যত পেনাল্টি দেওয়ার জন্য যেমন ট্যাকল হওয়া লাগে, রবার্টসনের ট্যাকলটা তেমন ছিল না। রবার্টসন ও কায়েহনের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের নমুনা ছিল সামান্যই। সেই লঘু ভুলেরই গুরুতর শাস্তি দেন রেফারি। আর ম্যাচের শেষ দিকে এসে এক গোলের অগ্রগামিতা পেয়ে যায় নাপোলি।

এমন এক গোল খেয়েই কি না, লিভারপুলের খেলোয়াড়দের মন ভেঙে যায়। আরও ছন্নছাড়া খেলতে শুরু করেন তারা। ফলাফল, ম্যাচের একদম শেষ মুহুর্তে স্প্যানিশ তারকা ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নাপোলির হয়ে। আর নাপোলিও নিজেদের মাঠ থেকে স্মরণীয় এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

লেখার শুরুতে যেটা বলা হয়েছিল, গতবারও গ্রুপপর্বে নাপোলির কাছে নাপোলির মাঠেই হেরে এসেছিল লিভারপুল। পরে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাটাও তাদের ঘরেই যায়। সে কথা চিন্তা করে এবারও লিভারপুলের সমর্থকেরা আশাবাদী হতেই পারেন!

আরেক ইংলিশ ক্লাব চেলসি ১-০ গোলে হেরেছে স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার কাছে। ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে গোল করেছেন স্প্যানিশ তারকা রদ্রিগো মোরেনো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে