রিয়াল-বার্সা পারেনি তিন মাসে, লেস্টার করল ৯০ মিনিটে

0
169
সাউদাম্পটনের মাঠে গতকাল আক্ষরিক অর্থেই উড়েছেন জেমি ভার্ডিরা। ছবি: রয়টার্স
গতকাল সাউদাম্পটনের মাঠে এক ম্যাচেই ৯ গোল করেছে লেস্টার সিটি। অথচ রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার মতো দল মৌসুমের তিন মাস মিলিয়েও প্রতিপক্ষের মাঠে এতগুলো গোল করতে পারেনি!

নামের ভারে হোক কিংবা স্কোয়াডের শক্তিমত্তায়, রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনার মতো মহাপরাক্রমশালীদের সঙ্গে লেস্টার সিটির তুলনা চলে না কোনো দিক থেকেই। মেসি-বেনজেমাদের দল যেখানে প্রতি মৌসুমে ইউরোপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামে, জেমি ভার্ডিরা সেখানে পয়েন্ট তালিকার সেরা চারে থাকতেই হিমশিম খান। তবে এখন পর্যন্ত এই মৌসুমের চিত্রটাকে ভিন্ন বলতেই হচ্ছে। মৌসুমের কেবল তিন মাস পেরিয়েছে, শিরোপার মীমাংসা হতে এখনো অনেক দেরি। তবে এক দিক থেকে রিয়াল-বার্সার মতো দলকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লেস্টার সিটি।

২০১৫-১৬ মৌসুমে ক্লদিও রানিয়েরির অধীনে লিগ শিরোপা জিতে রীতিমতো চমকেই দিয়েছিল লেস্টার। কিন্তু পরের তিন মৌসুমে সেই চমকের ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। এই মৌসুমে সাবেক লিভারপুল কোচ ব্রেন্ডন রজার্সের অধীনে যেন আবারও নতুন উদ্যমে লড়ছেন ভার্ডি-স্মাইকেলরা। ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে দলটি আছে ভালোভাবেই। তবে লেস্টার এখন আলোচনার কেন্দ্রে আছে গতকালের ম্যাচের গোলবন্যার পর। সাউদাম্পটনের মাঠে গিয়ে ৯-০ গোলে জিতে এসেছে তারা! প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে এত বড় ব্যবধানে জেতেনি আর কোনো দল। মজার বিষয় হচ্ছে, লেস্টার এই এক ম্যাচেই যা করেছে, রিয়াল-বার্সার মতো দল মৌসুমের তিন মাস মিলিয়েও সেটি করে দেখাতে পারেনি।

লিগ শিরোপা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অ্যাওয়ে ম্যাচের ফলাফল বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের সামনে গোল করে ফলাফল নিজেদের দিকে আনা সহজ নয় মোটেও। বার্সা-রিয়াল কোনো দলই এই মৌসুমে প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেনি। সাক্ষ্য দেবে পরিসংখ্যানও। চলতি মৌসুমে লিগে প্রতিপক্ষের মাঠে ৫ ম্যাচ খেলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা গোল করেছে মাত্র ৭টি! রিয়াল তো আরও পেছনে। সমান ম্যাচ খেলে বেনজেমা-হ্যাজার্ডরা গোল করতে পেরেছেন ৬টি। সেখানে লেস্টার গতকাল এক ম্যাচেই প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে করে এসেছে ৯ গোল!

শুধু রিয়াল বা বার্সেলোনা নয়, চলতি মৌসুমে অ্যাওয়ে গোলের দিক থেকে নামীদামি অনেক ক্লাবের চেয়েই এগিয়ে আছে লেস্টার। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ‘বিগ সিক্স’ এর পাঁচ দলই অ্যাওয়ে গোলের দিক থেকে পিছিয়ে আছে লেস্টারের চেয়ে। প্রতিপক্ষের মাঠে ৫ ম্যাচ খেলে লেস্টার ১৩ গোল করেছে। লেস্টারের চেয়ে এগিয়ে আছে কেবল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। প্রতিপক্ষের মাঠে ৫ ম্যাচ খেলে ১৫ গোল করেছে গার্দিওলার শিষ্যরা। লিভারপুল ৫ ম্যাচে করেছে ৯ গোল, চেলসি ১২ গোল, আর্সেনাল ও টটেনহাম দিয়েছে ৫ গোল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবস্থান তো চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। ৪টি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলে একটিতেও জিততে পারেনি তারা, ২ ড্রয়ের পাশাপাশি হেরেছে ২টিতে। জিতবে কীভাবে, এই ৪ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে তারা বলই ঢুকিয়েছে মাত্র ২ বার!

মজার তথ্য আছে আরও একটি। লেস্টার যেখানে এক ম্যাচেই করেছে ৯ গোল, সেখানে ইউরোপের কুলীন তিনটি দল পুরো মৌসুম মিলিয়েই এখনো ৯ গোল করতে পারেনি! বেহাল দশার এই ক্লাবগুলো হলো দুই স্প্যানিশ দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও অ্যাথলেটিক বিলবাও এবং এক সময়ের পরাশক্তি ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলান। অ্যাটলেটিকো এবং বিলবাও লিগে এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচ খেলে গোল করেছে মাত্র ৮টি! এসি মিলানও ৮ ম্যাচ খেলে গোল করেছে ৮টি। ওলে গানার সুলশারের ইউনাইটেডের অবস্থাও এদের চেয়ে খুব একটা ভালো নয়। ৯ ম্যাচ খেলে রাশফোর্ড-পগবারা দলকে গোল এনে দিতে পেরেছেন মাত্র ১০টি, এর মধ্যে প্রথম ম্যাচেই চেলসিকে তারা দিয়েছিল ৪ গোল! অর্থাৎ পরের ৮ ম্যাচে দলটি গোল করেছে মাত্র ৬টি।

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে গোল করার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। ১০ ম্যাচে ৩২ গোল করেছেন আগুয়েরো-স্টার্লিংরা। স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা করেছে ২৩ গোল, জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্নের গোল ২২টি, আর ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়ন পিএসজি গোল করেছে ২১টি। বাকি চ্যাম্পিয়নদের তুলনায় গোল করার দিক থেকে অবশ্য কিছুটা পিছিয়ে আছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাস। ৮ ম্যাচে রোনালদো-দিবালারা গোল করেছেন মাত্র ১৫টি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে