রায় ঘোষণার ঘটনায় মালয়েশিয়া সফর বাতিল করে জরুরি বৈঠকে ইমরান

0
159
ইমরান খান ও পারভেজ মোশাররফ

পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার ঘটনায় মালয়েশিয়া সফর বাতিল করে জরুরি বৈঠকে বসেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ইসলামাবাদে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মোশাররফের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়, সেনাপ্রধানের মেয়াদ বাড়ানোসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শীর্ষ নেতাদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল গতকাল।

সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করায় রাষ্ট্রদোহের দায়ে পারভেজ মোশাররফকে গত মঙ্গলবার ফাঁসির আদেশ দেন পাকিস্তানের একটি বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পরই এটিকে ‘বেদনাদায়ক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। আর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার রায়কে ‘অন্যায়’ দাবি করে বলেছে, আপিল শুনানির সময় অসুস্থ ও স্বেচ্ছা নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশাররফের পক্ষে থাকবে তারা।

মোশাররফ ন্যায়বিচার পাননি দাবি করে তাঁর আইনজীবী ব্রিটিশ নাগরিক টবি ক্যাডমেন ওই মামলায় আবার বিচার শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

মোশাররফের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার গভীর রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ফেরদৌস আশিক আওয়ানকে নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন অ্যাটর্নি জেনারেল আনোয়ার মনসুর। এ সময় আপিলে মোশাররফের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই মামলায় আমি আইনকে রক্ষা করব, কোনো ব্যক্তিকে নয়।’ মনসুর বলেন, বিশেষ আদালতে মামলা চলাকালে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশাররফকে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো বক্তব্য নথিভুক্ত করা ছাড়াই তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচারকেরা রায় ঘোষণা করেন।

১৯৯৯ সালের রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসেন সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ। ক্ষমতায় টিকে থাকতে ২০০৭ সালের নভেম্বরে সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করেন তিনি। ওই সময় ইসলামাবাদ ও পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলের বেশ কিছু বিচারককে গৃহবন্দী করা হয়। ২০১৩ সালে নওয়াজ ক্ষমতায় ফিরলে মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে আসছেন সাবেক এই স্বৈরশাসক। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ড
রায় ঘোষণার পরই এটিকে ‘বেদনাদায়ক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন মোশাররফের শারীরিক অবস্থা যখন সংকটাপন্ন, তখন তাড়াহুড়ো করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এই রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আনোয়ার মনসুর বলেন, সংবিধানের ৩৪২ নম্বর অনুচ্ছেদে আসামির সাক্ষ্যদান ও বক্তব্য প্রদানের বিধান রয়েছে। কিন্তু এ মামলায় মোশাররফকে কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার অনুরোধ জানালেও বিচারক তা প্রত্যাখ্যান করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শীর্ষ সরকারি কৌঁসুলির পাশে থাকা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিশেষ সহকারী ফেরদৌস আশিক আওয়ান এই রায় নিয়ে বিরোধী দলগুলো অপরাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে