রাজধানী সুপার মার্কেটে পুড়েছে ২১ দোকান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আহাজারি

0
445
গতকাল আগুনে পুড়ে যাওয়া মালামাল

রাজধানী সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে দোতলার ২১টি দোকান। এছাড়াও আগুনের তাপে ও নেভানোর সময় পানি পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও বেশ কিছু। ক্ষতির সঠিক পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তাদের প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে টিকাটুলিতে পুড়ে যাওয়া এই মার্কেটটির সামনে বৃহস্পতিবার ছিল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর ভিড়। তাদের কেউ কেউ আহাজারি করছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, সর্বনাশা আগুন নিঃস্ব করেছে তাদের।

ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বীমা করা আছে। এ কারণেই জিডি করেন তিনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য কেউ কোনো মামলা বা অভিযোগ করেননি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে রাত সোয়া ৮টায় আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। এতে একজন সামান্য আহত হন। পুরো মার্কেটটি রাজধানী সুপার মার্কেট নামে পরিচিত হলেও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মূলত নিউ রাজধানী সুপার মার্কেট। এদিকে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, তা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো বিভিন্ন মালিকের। সেগুলোয় নানারকম মালপত্র ছিল। আগুনে প্রায় সবই পুড়ে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে তদন্ত কমিটি।’

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোতলার ২১টি দোকান পুড়লেও আগুন নেভানোর সময় ছিটানো পানিতে দোতলা ও নিচতলার অনেক দোকানের মালপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের তাপে ক্ষতি হয়েছে পুড়ে যাওয়া দোকানের পাশের প্রতিষ্ঠানগুলোর।

মার্কেটটির দোতলায় উত্তর-পশ্চিমের দিকে যে অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়, ওই অংশের নিচতলায় অন্তত ৪০টি গহনার দোকান রয়েছে। ‘আল মাহের জুয়েলার্স’ নামে একটি গহনার দোকানের মালিক আবু তাহের জানান, আগুন লাগার পর তিনি ও তার কর্মচারীরা বের হওয়ার সময় দোকানের সাটার নামাতে পারলেও তালা দিতে পারেননি। অন্য দোকানগুলোর অবস্থাও ছিল তার মতো।

দোতলায় শান্তা গার্মেন্টস নামে একটি দোকানের মালিক আল আমিন জানান, দোকান ছাড়াও সেখানে তার দুটি গুদাম রয়েছে। গুদামে প্রায় ২৮ লাখ টাকার মালপত্র ছিল। সবই পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুনে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

অ্যামব্রয়ডারি ও লেডিস টেইলার্সের মালিক বিল্লাল হোসেন জানান, লোহার তৈরি মেশিনগুলোর কাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আগুনে তাকে পথে বসিয়েছে।

আগুনে পুড়ে যাওয়া ফোমের গুদামের কর্মী রাসেল জানান, গুদামের পাশে ঝালাইয়ের কাজ চলছিল। সেখান থেকে স্ম্ফুলিঙ্গ এসে পড়ে ফোমের ওপর। এতে মুহূর্তে আগুন ধরে যায় দোকানে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি দুর্ঘটনা না নাশকতা- এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী। তারা বলছেন, এই মার্কেটে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন স্থানীয় কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজু। তার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দিয়ে থাকতে পারেন। তাছাড়া মাত্র ৪০ দিন আগে মার্কেটে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়। তখন বৈদ্যুতিক তারের ত্রুটিসহ যেসব দুর্বলতা ধরা পড়েছিল, তা সংস্কার করেনি কর্তৃপক্ষ। মার্কেটে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ছিল না। কয়েকটি স্ট্রিংগুইশার থাকলেও সেগুলো ছিল খালি। অবশ্য পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, নাশকতার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে