রাজধানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

0
98
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

এরমধ্যে তুরাগে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যাওয়া ঘুড়ি পেড়ে আনতে গিয়ে মারা যায় শিশু শান্ত (১৩)। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তার মা আনোয়ারা বেগম। অন্যদিকে বাড্ডায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন নির্মাণ শ্রমিক শাহাদাত (২২) ও ইয়াসিন (২১)।

বুধবার সকাল ও বিকেলে এসব ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, তুরাগের চন্ডালভোগ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত শিশু শান্ত। সকালে সে এ-ব্লকের ২৮ নম্বর প্লটের সাততলা ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ঘুড়ি উড়াচ্ছিল। এ সময় তার ঘুড়ি ভবনের সামনের বিদ্যুতের তারে আটকে যায়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সে আটকে যাওয়া ঘুড়িটি পেড়ে আনার চেষ্টা করে। এজন্য লোহার দুটি পাইপ একসঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে সে ওপরে ওঠে। একপর্যায়ে অসাবধানতায় সে হাই ভোল্টেজ বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যায়। তার চিৎকার শুনে মা আনোয়ারা বেগম এগিয়ে যান। সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

তুরাগ থানার ওসি নুরুল মোত্তাকীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ নূর আলম। শিশুটির মা উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনিও শঙ্কামুক্ত নন।

এদিকে বিকেলে বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান দুই শ্রমিক। তাদের মধ্যে শাহাদাতের গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুরের রায়পুর এবং ইয়াসিনের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলায়।

বাড্ডা থানার এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, ডিআইটি প্রজেক্টের ১১ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর প্লটে ভবন নির্মাণের কাজ করছিলেন ওই দুজন। এর আগে সেখানে মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক পাম্প দিয়ে সেচের কাজ করছিলেন তারা। এ সময় তাদের একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে অপরজন তাকে ছাড়াতে যান। এতে দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে