রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ২ জন

0
1592
মায়ের সাথে আতির্থ্য চাকমা, ২ বছর তিন মাস, বেড-৭, বনরূপা, রাঙ্গামাটি।

রাঙ্গামাটি জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য রোগীর সংখ্যা প্রচুর।

গতকাল সোমবার রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর সংখ্যক রোগী হাসপাতালের কাউন্টারে টিকেট ও ঔষধ সংগ্রহ করতে লাইলে দাঁড়াতে দেখা যায়।  তথ্য কর্ণারে থাকা অমিশ্রী চাকমা বলেন, শনিবার, সোমবার ও বুধবারে প্রচুর রোগী হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা নিতে। প্রতিদিন গড়ে ২০০-২৫০ রোগী বহির্বিভাগে দেখা করেন।

রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে বহিঃবিভাগের রোগীদের লাইনে দাঁড়ানোর ছবি।

মহিলা ও শিশু বিভাগে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী আতির্থ্য চাকমা, বাবা হেমিলন চাকমা, মাতা টুনটুনি চাকমা,বাড়ি বনরুপা, রাঙ্গামাটি। বয়স ২ বছর তিন মাস, বেড নং-৭ । রোগীর বাবা জানান, তার শিশুটি আজ ৭ দিন যাবৎ অসুস্থ। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা হতে তাদের বাড়িতে অনেক লোকের যাওয়া আসা রয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নয়। তারপরও তার শিশুটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে।

সোমা চাকমা, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি।

একই বিভাগে ভর্তি ঢাকা হতে আগত ডেঙ্গু রোগী সোমা চাকমা জানান, তিনি ঢাকা মহিলা কলেজে পড়েন।সেখানেই তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। চারদিন যাবৎ ঢাকায় চিকিৎসার পর তাকে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।রোগীর মা জানান সেখানে তার মেয়ে দেখাশুনা করতে কষ্ট হয় তাই এখানে নিয়ে আসা।বেড নং-২২, সোমা চাকমার বয়স ১৭ বছর, বাড়ি বাঘাইছড়ি উপজেলার রুপকারী ইউনিয়নে। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য তাদেরকে ১২,০০টাকা দিতে হয়েছে। ৭ দিন ধরে ডেঙ্গুতে ভোগছেন, বর্তমানে তার অবস্থা অনেকটা উন্নতি হয়েছে।

আয়েশা আক্তার।

ডেঙ্গু সন্দেহে ভর্তি আয়েশা আক্তার বয়স ২৩ বছর।স্বামী আজগর হোসেন জানান দু’দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।ডাঃ নিহারঞ্জন নন্দীর পরামর্শে তারা ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন ডেঙ্গু হিসেবে নিশ্চিত নয়। কারণ ডেঙ্গু হলে রক্তের সেলগুলো যেভাবে কমে যায় সেভা্বে কমছে তার।

আবু সাঈদ।

নতুন ভর্তির জন্য এসেছেন আবু সাঈদ।বয়স-১৮,পিতা মনসুর আহমেদ মাতা আমেনা খাতুন। তিনিও ডেঙ্গু সন্দেহে এসেছেন।বাড়ি রাণী হাট, পুলিশ ক্যাম্প এলাকা, রাঙ্গামাটি। রোগীর মা বলেন, কয়েক দিন আগে ঢাকায় বেড়াতে গিয়ে ছিল তার ছেলে।

ডাঃ শৈকত আকবর খান হাসপাতালের আরএমও বলেন, আমাদের হাসপাতালে মাত্র দুই জনই ডেঙ্গু রোগী। বাকী রোগীগুলো এখনও নিশ্চিত নয়।তিনি ডেঙ্গুতে ব্যাপক আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছেন না।

রাঙ্গামাটি জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার বলেন, ‘‘এখানে ডেঙ্গু রোগ নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই। কারণ একমাত্র রোগী পাওয়া গেছে আর বাকি রোগীটা ঢাকা হতে আগত।’’

এদিকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, রাঙ্গামাটিতে এক র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে