রণতরি–যুদ্ধবিমানে চীনের মহড়া, তাইওয়ানের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র

0
36
চীনের বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিং। রয়টার্সের ফাইল ছবি

তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা সীমায় গতকাল বুধবার চীনের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ঢুকে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। তাইওয়ান বলছে, কয়েক দিন ধরেই বেইজিং তাদের উপকূলে শক্তি প্রদর্শন করে চলেছে। এরই অংশ হিসেবে এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে চীন। কোনো ধরনের হামলা হলে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে তাইওয়ানের পাশে থাকার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, স্বশাসিত গণতান্ত্রিক দ্বীপাঞ্চল তাইওয়ান বারবার অভিযোগ করে আসছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের সীমানা ঘিরে চীনের সামরিক কার্যাক্রম বেড়েছে। চীনের বিমানবাহিনী প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা সীমা লঙ্ঘন করে চলেছে। গত সোমবার চীন এক বিবৃতিতে জানায়, বিমানবাহিনীর একটি রণতরি তাইওয়ানের কাছে সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিংসহ বিশাল সামরিক বহর নিয়ে সোমবার তাইওয়ানের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে মহড়া চালায় চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। এই রকম সামরিক মহড়া তাইওয়ান ও মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চরম হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর মধ্যে রয়টার্সের খবরে আরও বলা হয়েছে, চীনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গতকাল তাইওয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দেয়। এতে মন্ত্রণালয়টি দাবি করে, ১২টি যুদ্ধবিমানসহ চীনের ১৫টি উড়োজাহাজ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সীমায় ঢুকে পড়ে। এসব আকাশযানের মধ্যে সাবমেরিন–বিধ্বংসী একটি উড়োজাহাজ ছিল, যেটি তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের মধ্য দিয়ে যাওয়া বাশি চ্যানেল হয়ে দক্ষিণের দিকে উড়ে যায়। মন্ত্রণালয়টি আরও জানায়, চীনের উড়োজাহাজগুলোকে বাধা দিতে ও সতর্ক করতে তাইওয়ানের বিমানবাহিনী উড়োজাহাজ পাঠায়।

চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। তারা বলেছে, গতকাল তাইওয়ান প্রণালির রুট ধরে জন এস ম্যাককেইন গাউডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘রুটিন’ অভিযান চালিয়েছে। তবে চীন এটাকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। চীনের ইস্টার থিয়েটার কমান্ড গতকাল বলেছে, তারা একটি জাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে এবং তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিন্দা জানিয়েছে তারা।

চীনের সাবমেরিন–বিধ্বংসী সামরিক বিমান তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে

১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে চীন থেকে তাইওয়ান আলাদা হয়। তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে থাকে। কিন্তু বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে তা অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ জন্য চীন তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করতে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। তাইওয়ানকে অল্প কয়েকটি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে।

তাইওয়ান সীমানাসংলগ্ন দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উও। গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁর দেশ গভীর উদ্বিগ্ন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানা–বোঝা মতে, এই অঞ্চলের কার্যক্রম প্রত্যক্ষের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মনে স্পষ্ট ধারণার জন্মেছে যে তাইওয়ানের ওপর চীনের সম্ভাব্য হামলা আসন্ন। কোনো আগপাছ না ভেবে আমরাও নিজেদের রক্ষা করতে প্রস্তুত। যদি একটি যুদ্ধ করার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে আমরা যুদ্ধ করব। আমরা নিজেদের রক্ষায় শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।’

চীন ও তাইওয়ানের উত্তেজনার বিষয়ে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইসকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। উত্তরে প্রাইস বলেন, তাইওয়ানসহ ওই অঞ্চলে চীনের ভয় দেখানোর চলমান ধরনে যুক্তরাষ্ট্র ‘গভীর উদ্বিগ্ন’। তাইওয়ানকে রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে