যেভাবে রাশিয়াকে দেখা যেতে পারে বিশ্বকাপে

0
125
দল না গেলেও রাশিয়ান ফুটবলারদের বিশ্বকাপ খেলায় বাঁধা নেই। রয়টার্স ফাইল ছবি

সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে আগামী চার বছরের জন্য রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ডোপিং-বিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) । এর ফলে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক ও ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না দেশটি। সুইজারল্যান্ডের লুজানে গতকাল আজ ওয়াডার কার্যনির্বাহী সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মজার ব্যাপার, কাতার বিশ্বকাপে রাশিয়া খেলতে না পারলেও রাশিয়ান খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে কোনো আপত্তি নেই ওয়াডার!

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাশিয়ার অ্যাথলেটদের ডোপ নেওয়ার তথ্য প্রকাশের পর ২০১৬ রিও অলিম্পিকের অ্যাথলেটিকসে অংশ নিতে পারেনি রাশিয়া। গত তিন বছরে ধীরে ধীরে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের নতুন করে মস্কোর পরীক্ষাগার থেকে ২০ হাজার নমুনা সংগ্রহ করে ওয়াডা। সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সেপ্টেম্বরে ওয়াডা দাবি করে, নমুনার তথ্যে প্রচুর বিভ্রান্তি ও অধারাবাহিকতা পেয়েছে তারা। এরই ফলে গতকাল ৯ ডিসেম্বর চার বছরের নিষেধাজ্ঞা জুটেছে রাশিয়ার কপালে।

এ নিষেধাজ্ঞার ফলে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রাশিয়ার অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবু ফিফা পুরো বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়ার জন্য ওয়াডার কাছে জানতে চেয়েছিল। ওয়াডার নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটির প্রধান জোনাথন টেলর জানিয়েছেন, তারা যদি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পার হতে পারে, তবে রাশিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করা দল অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু এমন কোনো পদ্ধতি যদি বের করা যায় যেখানে তারা নিরপেক্ষ হিসেবে খেলতে পারবে, রাশিয়ার হয়ে নয় তবে ওদের অংশগ্রহণে বাঁধা নেই।

২০১৮ পিয়ংইয়ং শীতকালীন অলিম্পিকে এভাবেই রাশিয়ার অ্যাথলেটরা অংশ নিয়েছিলেন। রাশিয়ার ফুটবল দলকেও সে সুযোগই দেওয়া হবে, যদি তারা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পার হতে পারে। তবে ইউরোপের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এখনো শুরু হয়নি। ফলে বাছাইপর্বে রাশিয়ার অংশগ্রহণ নিয়েও কিছুটা দ্বিধা দ্বন্দ্ব রয়েছে। রাশিয়াকে অবশ্য ২১ দিন সময় দেওয়া হয়েছে আপিল করার জন্য। সে ক্ষেত্রে এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের বিচারের অন্তর্ভুক্ত হবে।

রাশিয়ার আগেও ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে বেশ কিছু দেশ। ১৯৯২ পর্যন্ত বর্ণ বৈষম্যের কারণে নিষিদ্ধ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় বয়স চুরি করায় ১৯৯০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নিষিদ্ধ হয়েছিল মেক্সিকো। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে চিলি ছিটকে গিয়েছিল তাদের এক খেলোয়াড়ের কারণে। ব্রাজিলের বিপক্ষে বাছাইপর্বের ম্যাচে রেজর দিয়ে নিজের মুখ কেটে চোটের ভান করেছিলেন চিলিয়ান গোলরক্ষক রবার্তো রোহাস।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে