মড়া বার্সার ‘খাঁড়া’ আনসু ফাতি

0
67
বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে পরশু আবার চোটে পড়েছেন ফাতি ছবি: রয়টার্স

মৌসুমে মূল শিরোপা জেতার আশা আর নেই, অথচ মৌসুমে সবে জানুয়ারি মাস চলছে! একটা শিরোপার আশা এখনো আছে, তবে সেই ইউরোপা লিগ তো আর বার্সার জন্য মূল শিরোপা নয়। জিতলেও তা হবে বার্সার চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়ার পর সান্ত্বনা পুরস্কার!

এ তো গেল মাঠের পারফরম্যান্স, মাঠের বাইরেও তথৈবচ! আর্থিকভাবে পঙ্গু বার্সেলোনা খেলোয়াড় কিনতে পারছে না। লিগে বেতনের সীমা নিয়ে টানাটানি দেখে তো গরিবের কম্বলের উদাহরণকে প্রাসঙ্গিক মনে হয়—মাথা ঢাকলে পা ঢাকে না। দু-একজন খেলোয়াড় কিনলেও বেতনের সীমার মধ্যে তাদের নিবন্ধনে ঝামেলায় পড়ছে বার্সা।

এর মধ্যে টানাটানি চলছে উসমান দেম্বেলের চুক্তি নবায়ন নিয়ে। আর ছয় মাস বাকি আছে চুক্তির, এমন অবস্থায় ফরাসি উইঙ্গার গোঁ ধরেছেন, তাঁকে বছরে ৪ কোটি ইউরো বেতন দিতে হবে। ২০১৭ সালে যোগ দেওয়ার পর মাঠের চেয়ে হাসপাতালে বেশি সময় কাটানো, ৪ বছরে মাত্র ৩১ গোল করা, বড় ম্যাচে মনে রাখার মতো তেমন কোনো পারফরম্যান্স উপহার দিতে না পারা একজনের জন্য বার্সা এত খরচে রাজিই নয়।

এত সব জটিলতার মধ্যে লিগের সেরা চারে থেকে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলাই বার্সার মূল লক্ষ্য। আর সে জন্য জাভির সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারতেন ফাতি। কিন্তু মৌসুমের শুরু থেকে চোটের কারণে সব মিলিয়ে মাত্র ১০ ম্যাচ খেলা ফাতি আবার চোট নিয়ে ছিটকে পড়েছেন। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা!

ফাতির কাঁধে চড়ে ওড়ার স্বপ্ন দেখেছিল বার্সা

ফাতির কাঁধে চড়ে ওড়ার স্বপ্ন দেখেছিল বার্সা 
ছবি: রয়টার্স

আগের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার আগেই তড়িঘড়ি করে ফাতিকে মাঠে নামানো হয়েছে। গত পরশু স্প্যানিশ কাপে বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে কোনো ধরনের সংস্পর্শ ছাড়াই তাঁর পায়ের মাংসপেশিতে টান লাগায় ধারণা করা হচ্ছে, আগের চোটই ভোগাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন ফাতি। কান্না শরীরের ব্যথায় নয়, একের পর এক চোটের কারণে অসহায়ত্বে।

বার্সেলোনা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলছে, চিকিৎসাপদ্ধতি কী হবে, সেটি পরে আলোচনা করে ঠিক হবে। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস বলছে, ফাতিকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছে বার্সা। টিভিথ্রি জানাচ্ছে, ফিনল্যান্ডে গিয়ে অস্ত্রোপচার করাবেন ফাতি। আর অস্ত্রোপচার মানে, মাস তিনেক তাঁকে দেখা যাবে না। অর্থাৎ মৌসুমই শেষ হয়ে যেতে পারে।

২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেকেই ক্লাবের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় (১৬ বছর ২৯৮ দিন) হিসেবে লিগ অভিষেকের রেকর্ড গড়েছিলেন ফাতি। ছয় দিন পর লিগে ওসাসুনার বিপক্ষে গোল করে হলেন বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা, স্প্যানিশ লিগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ।

১৭ সেপ্টেম্বর গড়লেন বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার রেকর্ড, ১০ ডিসেম্বর ইন্টার মিলানের বিপক্ষে গোল করে বনে গেলেন চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসেরই সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা।

গোলের রাস্তাটা ভালোই চেনেন ফাতি, চোট সামলানোর রাস্তাটাই খুঁজে পাচ্ছেন না

গোলের রাস্তাটা ভালোই চেনেন ফাতি, চোট সামলানোর রাস্তাটাই খুঁজে পাচ্ছেন না 
ছবি: রয়টার্স

এত রেকর্ড গড়ার মধ্যেই অবশ্য দুই দফায় চোটের কবলে পড়েছেন, তবে সেগুলো ছিল অল্প সময়ের জন্য। দুবারই সমস্যা হয়েছিল হাঁটুতে, কম বয়সী হাঁটু জোড়া হয়তো এই পর্যায়ের ফুটবলের ভার নিতে পারছিল না। ২৭ সেপ্টেম্বর মাঠের বাইরে গেলেন ৮ দিনের জন্য, ৫ ডিসেম্বর চোটে পড়ে বাইরে ছিলেন ৪ দিন। ১৯ ডিসেম্বর আবার চোট, এবার ছোটখাটো ধাক্কা, তাতে ১০ দিন মাঠের বাইরে ফাতি।

২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোটামুটি নির্বিঘ্নেই খেলে গেছেন। এর মধ্যে চোট বলতে শুধু ১১ সেপ্টেম্বর কোমরে হালকা চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন ৭ দিন। কিন্তু ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ফাতির দুঃস্বপ্নের শুরু। মিনিসকাসের চোটে যে ছিটকে গেলেন, একেবারে ৩০৫ দিন মাঠের বাইরে!

এর মধ্যে বার্সেলোনায় আকাশ পাতাল হয়ে গেছে! সভাপতি বদলেছে, ক্লাবের আর্থিক অবস্থার দৈন্য সামনে এসেছে…বার্সার জন্য আরও বড় দুঃসংবাদ, আর্থিক জটিলতায় মেসির চুক্তি নবায়ন সম্ভব হয়নি! আগের চুক্তি শেষে মেসি তাই বাধ্য হলেন বার্সা ছাড়তে। ১০ নম্বর জার্সি পেলেন ফাতি।

এর মধ্যে ২০২১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মাঠে ফিরলেন ফাতি, দারুণ গোলে বার্সার ‘১০ নম্বর’ জার্সিতে পূর্বসূরির দুঃখ কিছুটা ভুলিয়েছেন। কিন্তু তার পরের দিন থেকে আবার চোটে। ফিটনেসে সমস্যা কাটিয়ে ১৪ দিন পর ফিরলেন, কিন্তু এক মাস খেলতে না খেলতেই হাঁটুর সমস্যায় আবার মাঠের বাইরে।

এরপর আরও দুই দফায় ফিরেছেন, কিন্তু হ্যামস্ট্রিং তাঁকে মাঠের চেয়ে বাইরেই রেখেছে বেশি। সব মিলিয়ে ছোট্ট ক্যারিয়ারে এরই মধ্যে বার্সেলোনার জার্সিতে ৬৫টি ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি ফাতি।

এবার আরও কয় ম্যাচ বাইরে থাকেন, কে জানে!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে