মোহামেডানের লোকমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, সম্রাটের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ

0
171
লোকমান হোসেন ভূঁইয়া

রাজধানীর তেজগাঁও থানার মাদক মামলায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ওই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

এদিকে মাদক মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট ও তাঁর সহযোগী যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া আজ রোববার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। ঢাকার সিএমএম আদালত বিচারের জন্য মামলার নথিপত্র ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে বলা হয়, আসামি লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বাসায় বিদেশি মদ পাওয়া গেছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মণিপুরিপাড়ার বাসা থেকে লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২। এ সময় তাঁর বাসা থেকে চার বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে র‌্যাব। পুলিশের পরিদর্শক জাহিদুর রহমান বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন।

৪ কোটি ৩৪ লাখ ১৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৭ অক্টোবর লোকমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়, লোকমান হোসেন ভূঁইয়া তাঁর আয়কর নথিতে নিজ নামে অর্জিত ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি নিজ নামে এবং তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন ব্যাংকে ২ কোটি ৯৬ লাখ ২৮ হাজার ৯৮৪ টাকা জমা রেখেছেন। এ অর্থ আয়ের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে তাঁর অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৪৮ টাকা।

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও এনামুল হক আরমান। ফাইল ছবি

সম্রাট-আরমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
৯ ডিসেম্বর মাদক মামলায় ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট ও তাঁর সহযোগী এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় র‌্যাব।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুবলীগ নেতা সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তাঁর সহযোগী আরমানের সহযোগিতায় তিনি মাদকদ্রব্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। ঢাকার দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব পরিচালনা করতেন তিনি। তাঁর নিয়ন্ত্রণেই এসব ক্লাবে ক্যাসিনোসহ জুয়ার আসর বসত। এভাবে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হন। প্রতি মাসে ক্যাসিনো খেলার জন্য সিঙ্গাপুরেও যেতেন তিনি। সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতেন। তাঁর সহযোগী ছিলেন কাউন্সিলর মমিনুল হক ওরফে সাঈদ এবং যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে