মোরালেসের সমর্থকদের ওপর পুলিশের গুলি, নিহত ৫

0
182
বলিভিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ চলছে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলিভিয়ার কেন্দ্রীয় শহর সাকাবার এক চিকিৎসক বলেছেন, স্থানীয় সময় শুক্রবারের এ ঘটনায় হতাহত বেশির ভাগ মানুষের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

তবে বলিভিয়া কর্তৃপক্ষ শহরটিতে কোনো মৃত্যুর কথা জানায়নি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে মোরালেস গত রোববার পদত্যাগ করেছেন। তিনি মেক্সিকোয় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। বলিভিয়ায় বিরোধী দলের সিনেটর জানিন আনেজ নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন।

মোরালেস শুক্রবার বিবিসিকে বলেছেন, অক্টোবরের বিতর্কিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অর্থবহ অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। আনেজ বলেছিলেন, মোরালেস বলিভিয়ায় ফিরে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হতে পারে।

নতুন সরকার ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। সাত শতাধিক কিউবান মেডিকেল প্রতিনিধিকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার বুঝিয়ে দিচ্ছে, মোরালেসের আঞ্চলিক বামপন্থী মিত্রদের কাছ থেকে তারা নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক গুয়াদালবার্তো লারা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, সাকাবা শহরের সংঘর্ষে হতাহত বেশির ভাগ মানুষই গুলিবিদ্ধ ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মোরালেসকে বলিভিয়ায় ফেরার আহ্বান জানানোয় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। এএফপির এক সংবাদদাতা বলেন, স্থানীয় হাসপাতালে মৃতদেহ দেখে সাবেক প্রেসিডেন্টের পাঁচ সমর্থককে হত্যার কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ছাড়া শুক্রবার দাঙ্গা পুলিশ দেশটির প্রশাসনিক কেন্দ্র লা পাজে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে।

মোরালেস বলেছেন, তাঁকে বাধ্য হয়েই ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। আর যাতে কোনো রক্তপাত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর পদত্যাগ তাঁর সমর্থক এবং পুলিশের মধ্যে সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.