মেধাবী আদিবাসী ছেলে মহিন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে পড়া অনিশ্চিত!

0
259
মহিন্দ্র ল্যাখড়া

দিনমজুর আদিবাসী ঘরের ছেলে মহিন্দ্র ল্যাখড়া। অভাব-অনটন ও দারিদ্রতা তার মেধাকে দমিয়ে রাখতে পারে নাই। সে এবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে কিন্তু অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন এখন মহিন্দ্রের বড় অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মহিন্দ্র জেলার পত্নীতলা উপজেলার হাসেনবেগপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এক হতদরিদ্র দিনমজুর আদিবাসী পরিবারের ছেলে। বাবা বাসুদেব উরাও ভ্যানগাড়ী চালায় আর মা বুলবুলি (বালা) উরাও মাঠে-ঘাঠে দিনমজুরের কাজ করে। মহিন্দ্র দু’বেলা খেয়ে না খেয়ে বামইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) ও চৌরাত শিবপুর বরেন্দ্র ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে ২০১৯ সালে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়েছে। মহিন্দ্রদের পরিবারের শেষ সম্বল মাথা গোঁজার জন্য একখন্ড জমি।

অল্পকিছু জায়গায় কোন মতে ঝুঁপড়ি কুঁড়ে ঘরে বসবাস করে মহিন্দ্র ও তার পরিবার। দুই ভাইয়ের মধ্যে মহিন্দ্র দ্বিতীয়। তার বড় ভাইও মেধাবী শিক্ষার্থী। সে বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়ালেখা করছে। মহিন্দ্রের দিনমজুর বাবা ও মা নিজেরা খেয়ে না খেয়ে বড় ছেলের পড়ালেখা কোনমতে চালিয়ে আসলেও বর্তমানে তাদের সামনে অন্ধকার নেমে এসেছে। আগামীতে মহিন্দ্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে।

সম্প্রতি মহিন্দ্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করলেও ভর্তির পর পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে মহিন্দ্র ও তার পরিবার। এছাড়াও আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করা নওগাঁর বেসরকারি এনজিও সংস্থা আরকো এবং নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ মহিন্দ্রকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু খন্ড খন্ড এই সহযোগিতাই মহিন্দ্রের জন্য যথেষ্ট নয়। তার জন্য খুবই প্রয়োজন ভর্তির প্রাথমিক পর্যায় সম্পন্ন হওয়ার পর ঢাকায় থেকে পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার সহযোগিতার। অর্থের অভাব কি তাহলে মহিন্দ্রকে তার উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ করার বিরত রাখবে?

মহিন্দ্রের বাবা বাসুদেব উরাও বলেন দিন দিন নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে দিনমজুরের কাজ করে দুই ছেলের পড়ালেখা ও সংসার চালানোর খরচ বহন করা আমাদের পক্ষে একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সাধ দিলেও দেয় নাই সামর্থ। অর্থের অভাবের কারণে আমি কখনোই আমার দুটি ছেলের ছোট-খাটো ইচ্ছেগুলোও পূরণ করতে পারি নাই। কোন মতে বড় ছেলের পড়ালেখার খরচ যা না দিলেই নয় তা দেওয়ার চেষ্টা করি। কোন মাসে তাও দিতে পারি না। আর আমাদের অসুখ-বিসুখতো লেগেই আছে। কিন্তু মহিন্দ্রকে নিয়ে পড়েছি চরম দুশ্চিন্তায়। মহিন্দ্রর খুব সখ সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করবে। কিন্তু মহিন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেও ঢাকার বুকে থেকে তার পড়ালেখার খরচ যোগান দেওয়ার মতো কোন সামর্থ আমাদের নেই। তাই সমাজের বিত্তবানদের করুনার অপেক্ষায় রয়েছি। যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি আমার ছেলেকে একটু সহযোগিতা করতো তাহলে হয়তো সে তার স্বপ্নটা পূরন করতে পারতো।

মহিন্দ্রকে যে কোন প্রকারের সহযোগিতা করার জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। কারণ আমাদের সবার বিন্দু বিন্দু সহযোগিতা পেলে হয়তো একজন মহিন্দ্র উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারবে। তাই আসুন আমরা যে যেভাবে পারি মহিন্দ্রের পাশে এসে দাড়াই।

মহিন্দ্রকে সহযোগিতা করার জন্য ০১৭১২৬৩৩৭২১ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। আমার-আপনার একটু করুনা বা সহযোগিতাই পারে একজন অতিদ্ররিদ্র মহিন্দ্রের অন্ধকার জীবন থেকে কালো মেঘ সরিয়ে সূর্যের ঝলমলে আলোয় আলোকিত করতে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে